ঢাকা    বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

চীন-পাকিস্তানকে মোকাবিলায় ২০০ যুদ্ধজাহাজের নৌবহর গড়ার পরিকল্পনায় ভারত

চীন-পাকিস্তানকে মোকাবিলায় ২০০ যুদ্ধজাহাজের নৌবহর গড়ার পরিকল্পনায় ভারত
চীন-পাকিস্তানকে মোকাবিলায় ২০০ যুদ্ধজাহাজের নৌবহর গড়ার পরিকল্পনায় ভারত

চীনের দ্রুত সম্প্রসারিত নৌবহর এবং পাকিস্তানের চীনা-নির্মিত আধুনিক আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজের সক্ষমতা মোকাবিলায় আগামী এক দশকের মধ্যে যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ২০০-এর বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবহরের অধিকারী চীন তার সামুদ্রিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করছে। একই সময়ে পাকিস্তানও চীনের তৈরি উন্নত আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ নিজেদের বহরে যুক্ত করেছে। এতে ভারত মহাসাগরের কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বেড়েছে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি মাসে ভারতীয় নৌবাহিনীতে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত দুটি যুদ্ধজাহাজ—স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান—অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নৌবহর সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরোর নকশায় নির্মিত আইএনএস মহেন্দ্রগিরি তৈরি করেছে মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স। জাহাজটির প্রায় ৭৫ শতাংশ উপকরণ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতার প্রচেষ্টার অংশ।

মহেন্দ্রগিরি নীলগিরি শ্রেণির ষষ্ঠ যুদ্ধজাহাজ। একই শ্রেণির সপ্তম জাহাজ আইএনএস বিন্ধ্যাগিরি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ‘প্রজেক্ট-১৭ ব্রাভো’ কর্মসূচির আওতায় আরও সাত থেকে আটটি নতুন প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে প্রায় ১৫০টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজসহ সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ। আরও প্রায় ৫০টি জাহাজ বর্তমানে নির্মাণাধীন।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্র বলেন, দেশীয়ভাবে জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা বিবেচনায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া গেলে এ সংখ্যা আরও বাড়ানোও সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, বর্তমান কৌশলগত বাস্তবতায় ভারতের অন্তত দুটি পূর্ণাঙ্গ, উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহর প্রয়োজন। তবে সেই সক্ষমতা নিশ্চিত করতে আরও বেশি সহায়ক জাহাজ নির্মাণও জরুরি।

লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্তির গতি বাড়িয়েছে ভারত। বর্তমানে গড়ে প্রতি ছয় সপ্তাহে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে যুক্ত হচ্ছে। গত দেড় মাসেই দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত পাঁচটি জাহাজ নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষায়িত ইস্পাতসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উপকরণের জন্য ভারত এখনো আমদানির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি দুর্বল সরবরাহব্যবস্থা এবং পুরোনো শিপইয়ার্ড অবকাঠামোও এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে থাকতে পারে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


চীন-পাকিস্তানকে মোকাবিলায় ২০০ যুদ্ধজাহাজের নৌবহর গড়ার পরিকল্পনায় ভারত

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

চীনের দ্রুত সম্প্রসারিত নৌবহর এবং পাকিস্তানের চীনা-নির্মিত আধুনিক আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজের সক্ষমতা মোকাবিলায় আগামী এক দশকের মধ্যে যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ২০০-এর বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবহরের অধিকারী চীন তার সামুদ্রিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করছে। একই সময়ে পাকিস্তানও চীনের তৈরি উন্নত আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ নিজেদের বহরে যুক্ত করেছে। এতে ভারত মহাসাগরের কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বেড়েছে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি মাসে ভারতীয় নৌবাহিনীতে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত দুটি যুদ্ধজাহাজ—স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান—অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নৌবহর সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরোর নকশায় নির্মিত আইএনএস মহেন্দ্রগিরি তৈরি করেছে মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স। জাহাজটির প্রায় ৭৫ শতাংশ উপকরণ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতার প্রচেষ্টার অংশ।

মহেন্দ্রগিরি নীলগিরি শ্রেণির ষষ্ঠ যুদ্ধজাহাজ। একই শ্রেণির সপ্তম জাহাজ আইএনএস বিন্ধ্যাগিরি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ‘প্রজেক্ট-১৭ ব্রাভো’ কর্মসূচির আওতায় আরও সাত থেকে আটটি নতুন প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে প্রায় ১৫০টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজসহ সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ। আরও প্রায় ৫০টি জাহাজ বর্তমানে নির্মাণাধীন।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্র বলেন, দেশীয়ভাবে জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা বিবেচনায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া গেলে এ সংখ্যা আরও বাড়ানোও সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, বর্তমান কৌশলগত বাস্তবতায় ভারতের অন্তত দুটি পূর্ণাঙ্গ, উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহর প্রয়োজন। তবে সেই সক্ষমতা নিশ্চিত করতে আরও বেশি সহায়ক জাহাজ নির্মাণও জরুরি।

লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্তির গতি বাড়িয়েছে ভারত। বর্তমানে গড়ে প্রতি ছয় সপ্তাহে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে যুক্ত হচ্ছে। গত দেড় মাসেই দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত পাঁচটি জাহাজ নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষায়িত ইস্পাতসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উপকরণের জন্য ভারত এখনো আমদানির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি দুর্বল সরবরাহব্যবস্থা এবং পুরোনো শিপইয়ার্ড অবকাঠামোও এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে থাকতে পারে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
চীন-পাকিস্তানকে মোকাবিলায় ২০০ যুদ্ধজাহাজের নৌবহর গড়ার পরিকল্পনায় ভারত
0:00 0:00
1.0x