ঢাকা    শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

কলকাতার বিভিন্ন মসজিদে জুমার আজান বন্ধ, আতঙ্কে মুসলিমরা

কলকাতার বিভিন্ন মসজিদে জুমার আজান বন্ধ, আতঙ্কে মুসলিমরা
কলকাতার বিভিন্ন মসজিদে জুমার আজান বন্ধ, আতঙ্কে মুসলিমরা

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একসময় কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় জুমার দিনে মসজিদে জায়গা সংকুলান না হলে অনেক মুসল্লি রাস্তায় নামাজ আদায় করতেন। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার সেই সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এর ফলে শুক্রবার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বেশ কিছু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি। আজানের শব্দ না পৌঁছানোয় অনেক মুসল্লি যথাসময়ে নামাজে অংশ নিতে পারেননি। এতে মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার এক ইমাম এদিন পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, মাইক নিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে তাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। তিনি জানান, তারা সবকিছু সহ্য করবেন, কারণ তাদের আর কিছু করার নেই। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানান তিনি। তার আশঙ্কা, তা না করলে সরকার সহজেই মুসলমানদের দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।

মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়।

মামলায় আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে পুলিশের সহায়তায় রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বিচারপতি ভগবতী প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পুরোনো রায়ের কথা উল্লেখ করে মসজিদগুলোতে আবার মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে এমন আচরণের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু হুগলির চাঁপদানি থেকেই অন্তত ১০০টি মসজিদের পক্ষ থেকে আবেদন আসতে পারে।

তবে রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এমন নির্দেশ কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দিয়েছেন—এমন নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নামও মামলাকারী দিতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪ হাজার মাইক খুলে নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও কোনো ইমাম সরাসরি আদালতে মামলা করেননি। তাই অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিয়ে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানতে চান, কোন জেলার কোন কোন মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তালিকা আদালতে দিতে হবে। একই সঙ্গে আজান দেওয়ার সময় মাইক ব্যবহারে শব্দবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও জানতে চান তিনি। আগামী ১৮ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। তার আগে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান আদালতে জানাতে বলা হয়েছে।

এদিকে এই আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি বক্তব্য সামনে আসে। তিনি বলেন, সরকার নতুন কোনো আইন করছে না; বরং ২০২০ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনাই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার দাবি, ধর্মীয় স্থান বলতে মন্দির ও মসজিদ—দুটিই বোঝায়। সেই অনুযায়ী ৪২০০টি মসজিদ এবং ১০৯৬টি মন্দির থেকে মাইক সরানো হয়েছে।

তবে সরকারের দেওয়া এই পরিসংখ্যানেও সংখ্যালঘু সমাজ আশ্বস্ত নয়। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম নাগরিকরা শনিবার স্বাধীনতা দিবস পালন করতে যাচ্ছেন।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


কলকাতার বিভিন্ন মসজিদে জুমার আজান বন্ধ, আতঙ্কে মুসলিমরা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একসময় কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় জুমার দিনে মসজিদে জায়গা সংকুলান না হলে অনেক মুসল্লি রাস্তায় নামাজ আদায় করতেন। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার সেই সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এর ফলে শুক্রবার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বেশ কিছু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি। আজানের শব্দ না পৌঁছানোয় অনেক মুসল্লি যথাসময়ে নামাজে অংশ নিতে পারেননি। এতে মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার এক ইমাম এদিন পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, মাইক নিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে তাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। তিনি জানান, তারা সবকিছু সহ্য করবেন, কারণ তাদের আর কিছু করার নেই। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানান তিনি। তার আশঙ্কা, তা না করলে সরকার সহজেই মুসলমানদের দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।

মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়।

মামলায় আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে পুলিশের সহায়তায় রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বিচারপতি ভগবতী প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পুরোনো রায়ের কথা উল্লেখ করে মসজিদগুলোতে আবার মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে এমন আচরণের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু হুগলির চাঁপদানি থেকেই অন্তত ১০০টি মসজিদের পক্ষ থেকে আবেদন আসতে পারে।

তবে রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এমন নির্দেশ কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দিয়েছেন—এমন নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নামও মামলাকারী দিতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪ হাজার মাইক খুলে নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও কোনো ইমাম সরাসরি আদালতে মামলা করেননি। তাই অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিয়ে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানতে চান, কোন জেলার কোন কোন মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তালিকা আদালতে দিতে হবে। একই সঙ্গে আজান দেওয়ার সময় মাইক ব্যবহারে শব্দবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও জানতে চান তিনি। আগামী ১৮ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। তার আগে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান আদালতে জানাতে বলা হয়েছে।

এদিকে এই আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি বক্তব্য সামনে আসে। তিনি বলেন, সরকার নতুন কোনো আইন করছে না; বরং ২০২০ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনাই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার দাবি, ধর্মীয় স্থান বলতে মন্দির ও মসজিদ—দুটিই বোঝায়। সেই অনুযায়ী ৪২০০টি মসজিদ এবং ১০৯৬টি মন্দির থেকে মাইক সরানো হয়েছে।

তবে সরকারের দেওয়া এই পরিসংখ্যানেও সংখ্যালঘু সমাজ আশ্বস্ত নয়। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম নাগরিকরা শনিবার স্বাধীনতা দিবস পালন করতে যাচ্ছেন।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কলকাতার বিভিন্ন মসজিদে জুমার আজান বন্ধ, আতঙ্কে মুসলিমরা
0:00 0:00
1.0x