ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

নতুন দ্বীপ গড়ছে সিঙ্গাপুর, ভবিষ্যৎ শিল্পায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

নতুন দ্বীপ গড়ছে সিঙ্গাপুর, ভবিষ্যৎ শিল্পায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
নতুন দ্বীপ গড়ছে সিঙ্গাপুর, ভবিষ্যৎ শিল্পায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

শিল্প, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ প্রয়োজন মেটাতে নতুন একটি দ্বীপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। সমুদ্র থেকে ভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কয়েকটি দ্বীপকে একীভূত করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে নতুন এই দ্বীপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী কয়েক দশকে ধাপে ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং সম্প্রতি ন্যাশনাল ডে র‌্যালিতে এ পরিকল্পনার কথা জানান। প্রস্তাবিত দ্বীপটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র জুরং দ্বীপের দক্ষিণে তৈরি করা হবে। পালাউ সেমাকাউ, পালাউ বুকোম ও পালাউ সুদংসহ কয়েকটি দ্বীপকে একত্র করে নতুন দ্বীপটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দ্বীপে ভবিষ্যতের শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বড় পরিসরে জায়গা পাওয়া যাবে। সেখানে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, উন্নত উৎপাদনশিল্প এবং বিভিন্ন ধরনের কম-কার্বন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে। এতে জুরং দ্বীপের শিল্প কার্যক্রমও আরও সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী হতে পারে।

নতুন দ্বীপে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাবনাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সিঙ্গাপুর। এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও বিস্তারিত সমীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শীতলীকরণে প্রয়োজনীয় পানি সহজে পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মূল ভূখণ্ডে বড় জায়গা ব্যবহার না করেও এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হবে। ভূমি পুনরুদ্ধার, পরিবহন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত প্রভাবও প্রকল্পটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন দ্বীপটি সিঙ্গাপুরের ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভূমির মজুত হিসেবে ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে কোন শিল্প খাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে—এমন বড় ও জটিল শিল্প অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আগেভাগেই জায়গা প্রস্তুত করতে চাইছে দেশটি।

সিঙ্গাপুরের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুরং দ্বীপের পাশে আরেকটি বড় শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র গড়ে উঠলে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থায় বিকল্প ব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


নতুন দ্বীপ গড়ছে সিঙ্গাপুর, ভবিষ্যৎ শিল্পায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

শিল্প, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ প্রয়োজন মেটাতে নতুন একটি দ্বীপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। সমুদ্র থেকে ভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কয়েকটি দ্বীপকে একীভূত করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে নতুন এই দ্বীপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী কয়েক দশকে ধাপে ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং সম্প্রতি ন্যাশনাল ডে র‌্যালিতে এ পরিকল্পনার কথা জানান। প্রস্তাবিত দ্বীপটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র জুরং দ্বীপের দক্ষিণে তৈরি করা হবে। পালাউ সেমাকাউ, পালাউ বুকোম ও পালাউ সুদংসহ কয়েকটি দ্বীপকে একত্র করে নতুন দ্বীপটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দ্বীপে ভবিষ্যতের শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বড় পরিসরে জায়গা পাওয়া যাবে। সেখানে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, উন্নত উৎপাদনশিল্প এবং বিভিন্ন ধরনের কম-কার্বন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে। এতে জুরং দ্বীপের শিল্প কার্যক্রমও আরও সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী হতে পারে।

নতুন দ্বীপে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাবনাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সিঙ্গাপুর। এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও বিস্তারিত সমীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শীতলীকরণে প্রয়োজনীয় পানি সহজে পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মূল ভূখণ্ডে বড় জায়গা ব্যবহার না করেও এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হবে। ভূমি পুনরুদ্ধার, পরিবহন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত প্রভাবও প্রকল্পটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন দ্বীপটি সিঙ্গাপুরের ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভূমির মজুত হিসেবে ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে কোন শিল্প খাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে—এমন বড় ও জটিল শিল্প অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আগেভাগেই জায়গা প্রস্তুত করতে চাইছে দেশটি।

সিঙ্গাপুরের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুরং দ্বীপের পাশে আরেকটি বড় শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র গড়ে উঠলে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থায় বিকল্প ব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
নতুন দ্বীপ গড়ছে সিঙ্গাপুর, ভবিষ্যৎ শিল্পায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
0:00 0:00
1.0x