বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতা পুতিন বিদেশ সফরে গেলে তার সঙ্গে শুধু কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলই থাকে না, নিরাপত্তার জন্যও থাকে বিশাল বহর। এতে নিয়োজিত থাকেন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী এবং ব্যবহার করা হয় অত্যাধুনিক নানা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুতিনের গতিবিধি কিংবা শারীরিক অবস্থার সামান্যতম তথ্যও যেন বিদেশি কোনো শক্তির হাতে না যায়, সে বিষয়েও তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা সর্বদা সতর্ক থাকেন।
রাশিয়া নিয়ে অনুসন্ধানী কাজ করা সংবাদ সংস্থা ডসিয়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে বিশেষ একটি বাহিনী। এর নাম রাশিয়ান প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস বা এসবিপি।
এই এফএসওতে প্রায় ৫০ হাজার কর্মী রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিরাপত্তা দেওয়া সিক্রেট সার্ভিসের কর্মীর সংখ্যার তুলনায় এটি প্রায় ছয় গুণ বেশি। পুতিনকে সার্বক্ষণিকভাবে প্রায় ৩০ জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী ঘিরে রাখেন। এর বাইরে তার আশপাশে থাকা শত শত মানুষের মধ্যেও এফএসওর সদস্যরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে দায়িত্ব পালন করেন।
ইউরোপীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন বিদেশ সফরে গেলে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা চারটি স্তরে ভাগ করা থাকে।
প্রথম স্তরে থাকেন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা। সাধারণত কালো পোশাকে এবং কানে ইয়ারফোন নিয়ে তারা পুতিনের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করেন।
দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব ও চলাফেরা অত্যন্ত গোপনীয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা গুপ্তচরদের নিয়ে এই স্তরটি গঠিত।
তৃতীয় স্তরের সদস্যরা বাইরের লোকজনকে পুতিনের কাছাকাছি আসতে বাধা দেন। তারা পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট নিরাপত্তা এলাকার বাইরে রাখেন।
সবচেয়ে বাইরের চতুর্থ স্তরটিকে নিরাপত্তার সবচেয়ে কঠোর স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই স্তরে থাকা স্নাইপাররা আশপাশের উঁচু ভবনের ছাদে অবস্থান করেন।
পুতিনের ভারত সফরকে সামনে রেখে নয়াদিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ভারত ও রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে তার জন্য তৈরি করেছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা।
পুতিনের নিরাপত্তাবলয়ের একেবারে ভেতরের অংশে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস বা এসবিপির সদস্যরা। তারা প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়াও তাদের অন্যতম দায়িত্ব।
এর পরের নিরাপত্তা স্তরে রয়েছে ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড বা এনএসজি কমান্ডোরা। সন্ত্রাসী হামলা কিংবা বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এই কমান্ডোদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার বাইরের স্তর নিয়ন্ত্রণ করছে দিল্লি পুলিশ। পুতিনের চলাচলের পথ, আশপাশের এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারও রয়েছে। বিশেষ ড্রোন, জ্যামার, এআইভিত্তিক নজরদারি এবং মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। পুতিনের গাড়িবহরের সম্ভাব্য চলাচলের পথে থাকা উঁচু ভবনগুলোতেও স্নাইপার দল মোতায়েন করা হয়েছে।
ইউরোপীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের স্থলপথের নিরাপত্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার বিশেষ গাড়ি। এটি ‘চলন্ত বাঙ্কার’ নামে পরিচিত। বুলেট ও বোমা প্রতিরোধী অরাস সেনাট মডেলের এই লিমুজিনটি রুশ প্রেসিডেন্টকে সড়কপথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।
গাড়িটিতে রয়েছে জরুরি অক্সিজেনের ব্যবস্থা, রান-ফ্ল্যাট টায়ার, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে যাওয়ার একাধিক পথ। এর বায়ু পরিশোধন ব্যবস্থা রাসায়নিক ও জৈবিক হামলা থেকেও সুরক্ষা দিতে সক্ষম। এমনকি গাড়ির টায়ার কিংবা জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় না।
ডসিয়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ সফরে পুতিন সাধারণত ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমানে যাতায়াত করেন। রুশ সংবাদমাধ্যমে বিমানটিকে ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ বলা হয়। এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা, এনক্রিপ্টেড কনফারেন্স রুম এবং একটি কমান্ড সিস্টেম রয়েছে। এমনকি পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার সক্ষমতাও এই ব্যবস্থার রয়েছে।
তবে পুতিন কখনো শুধু একটি বিমান নিয়ে সফর করেন না। একই রুটে তার সঙ্গে অন্তত একটি বা দুটি সহায়ক বিমান থাকে। ফলে তিনি কোন বিমানে অবস্থান করছেন, তা শত্রুপক্ষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম আলোচিত বিষয় তার খাবার ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নিরাপত্তা। বিদেশ সফরের সময় পুতিনের খাবার সফররত দেশের কোনো হোটেলের রান্নাঘরে প্রস্তুত করা হয় না। তার সঙ্গে থাকা রুশ রাঁধুনিরাই খাবার তৈরি করেন।
খাবার প্রস্তুতের সময় রাঁধুনিদের প্রত্যেককে দস্তানা ব্যবহার করতে হয়। দিনে একাধিকবার তাদের পোশাক পরিবর্তন করতে হয় এবং হাতে কোনো ধরনের ক্ষত রয়েছে কি না, তাও বারবার পরীক্ষা করা হয়। পুতিনের খাবারের প্রতিটি উপাদান পরীক্ষা করা হয়। খাবার তার কাছে পৌঁছানোর আগে দেহরক্ষীরা তা চেখে দেখেন।
পুতিনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচিত আরেকটি বিষয় হলো তার মলমূত্র সংরক্ষণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট বিদেশে গেলে তার মলমূত্র সংগ্রহের জন্য দেহরক্ষীরা একটি বিশেষ স্যুটকেস সঙ্গে রাখেন। পরে সেগুলো সংগ্রহ করে রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পুতিনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য যাতে অন্য কারও হাতে না পৌঁছায়, সে কারণেই বিদেশ সফরের সময় তার মলমূত্র সংগ্রহ করে মস্কোয় নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে ‘চেগেট’ নামে পরিচিত রাশিয়ার পারমাণবিক কমান্ড ব্রিফকেসের বিষয়টিও প্রায়ই আলোচনায় আসে। এটি রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি অংশ। ব্রিফকেসটি প্রেসিডেন্টের কাছাকাছি রাখা হয় এবং প্রয়োজন হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সূত্র: আমার দেশ।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতা পুতিন বিদেশ সফরে গেলে তার সঙ্গে শুধু কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলই থাকে না, নিরাপত্তার জন্যও থাকে বিশাল বহর। এতে নিয়োজিত থাকেন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী এবং ব্যবহার করা হয় অত্যাধুনিক নানা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুতিনের গতিবিধি কিংবা শারীরিক অবস্থার সামান্যতম তথ্যও যেন বিদেশি কোনো শক্তির হাতে না যায়, সে বিষয়েও তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা সর্বদা সতর্ক থাকেন।
রাশিয়া নিয়ে অনুসন্ধানী কাজ করা সংবাদ সংস্থা ডসিয়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে বিশেষ একটি বাহিনী। এর নাম রাশিয়ান প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস বা এসবিপি।
এই এফএসওতে প্রায় ৫০ হাজার কর্মী রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিরাপত্তা দেওয়া সিক্রেট সার্ভিসের কর্মীর সংখ্যার তুলনায় এটি প্রায় ছয় গুণ বেশি। পুতিনকে সার্বক্ষণিকভাবে প্রায় ৩০ জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী ঘিরে রাখেন। এর বাইরে তার আশপাশে থাকা শত শত মানুষের মধ্যেও এফএসওর সদস্যরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে দায়িত্ব পালন করেন।
ইউরোপীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন বিদেশ সফরে গেলে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা চারটি স্তরে ভাগ করা থাকে।
প্রথম স্তরে থাকেন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা। সাধারণত কালো পোশাকে এবং কানে ইয়ারফোন নিয়ে তারা পুতিনের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করেন।
দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব ও চলাফেরা অত্যন্ত গোপনীয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা গুপ্তচরদের নিয়ে এই স্তরটি গঠিত।
তৃতীয় স্তরের সদস্যরা বাইরের লোকজনকে পুতিনের কাছাকাছি আসতে বাধা দেন। তারা পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট নিরাপত্তা এলাকার বাইরে রাখেন।
সবচেয়ে বাইরের চতুর্থ স্তরটিকে নিরাপত্তার সবচেয়ে কঠোর স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই স্তরে থাকা স্নাইপাররা আশপাশের উঁচু ভবনের ছাদে অবস্থান করেন।
পুতিনের ভারত সফরকে সামনে রেখে নয়াদিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ভারত ও রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে তার জন্য তৈরি করেছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা।
পুতিনের নিরাপত্তাবলয়ের একেবারে ভেতরের অংশে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস বা এসবিপির সদস্যরা। তারা প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়াও তাদের অন্যতম দায়িত্ব।
এর পরের নিরাপত্তা স্তরে রয়েছে ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড বা এনএসজি কমান্ডোরা। সন্ত্রাসী হামলা কিংবা বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এই কমান্ডোদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার বাইরের স্তর নিয়ন্ত্রণ করছে দিল্লি পুলিশ। পুতিনের চলাচলের পথ, আশপাশের এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারও রয়েছে। বিশেষ ড্রোন, জ্যামার, এআইভিত্তিক নজরদারি এবং মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। পুতিনের গাড়িবহরের সম্ভাব্য চলাচলের পথে থাকা উঁচু ভবনগুলোতেও স্নাইপার দল মোতায়েন করা হয়েছে।
ইউরোপীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের স্থলপথের নিরাপত্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার বিশেষ গাড়ি। এটি ‘চলন্ত বাঙ্কার’ নামে পরিচিত। বুলেট ও বোমা প্রতিরোধী অরাস সেনাট মডেলের এই লিমুজিনটি রুশ প্রেসিডেন্টকে সড়কপথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।
গাড়িটিতে রয়েছে জরুরি অক্সিজেনের ব্যবস্থা, রান-ফ্ল্যাট টায়ার, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে যাওয়ার একাধিক পথ। এর বায়ু পরিশোধন ব্যবস্থা রাসায়নিক ও জৈবিক হামলা থেকেও সুরক্ষা দিতে সক্ষম। এমনকি গাড়ির টায়ার কিংবা জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় না।
ডসিয়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ সফরে পুতিন সাধারণত ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমানে যাতায়াত করেন। রুশ সংবাদমাধ্যমে বিমানটিকে ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ বলা হয়। এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা, এনক্রিপ্টেড কনফারেন্স রুম এবং একটি কমান্ড সিস্টেম রয়েছে। এমনকি পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার সক্ষমতাও এই ব্যবস্থার রয়েছে।
তবে পুতিন কখনো শুধু একটি বিমান নিয়ে সফর করেন না। একই রুটে তার সঙ্গে অন্তত একটি বা দুটি সহায়ক বিমান থাকে। ফলে তিনি কোন বিমানে অবস্থান করছেন, তা শত্রুপক্ষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম আলোচিত বিষয় তার খাবার ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নিরাপত্তা। বিদেশ সফরের সময় পুতিনের খাবার সফররত দেশের কোনো হোটেলের রান্নাঘরে প্রস্তুত করা হয় না। তার সঙ্গে থাকা রুশ রাঁধুনিরাই খাবার তৈরি করেন।
খাবার প্রস্তুতের সময় রাঁধুনিদের প্রত্যেককে দস্তানা ব্যবহার করতে হয়। দিনে একাধিকবার তাদের পোশাক পরিবর্তন করতে হয় এবং হাতে কোনো ধরনের ক্ষত রয়েছে কি না, তাও বারবার পরীক্ষা করা হয়। পুতিনের খাবারের প্রতিটি উপাদান পরীক্ষা করা হয়। খাবার তার কাছে পৌঁছানোর আগে দেহরক্ষীরা তা চেখে দেখেন।
পুতিনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচিত আরেকটি বিষয় হলো তার মলমূত্র সংরক্ষণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট বিদেশে গেলে তার মলমূত্র সংগ্রহের জন্য দেহরক্ষীরা একটি বিশেষ স্যুটকেস সঙ্গে রাখেন। পরে সেগুলো সংগ্রহ করে রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পুতিনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য যাতে অন্য কারও হাতে না পৌঁছায়, সে কারণেই বিদেশ সফরের সময় তার মলমূত্র সংগ্রহ করে মস্কোয় নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে ‘চেগেট’ নামে পরিচিত রাশিয়ার পারমাণবিক কমান্ড ব্রিফকেসের বিষয়টিও প্রায়ই আলোচনায় আসে। এটি রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি অংশ। ব্রিফকেসটি প্রেসিডেন্টের কাছাকাছি রাখা হয় এবং প্রয়োজন হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সূত্র: আমার দেশ।

আপনার মতামত লিখুন