পুনর্গঠন ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ যাবে অবকাঠামো খাতে। এ খাতে প্রয়োজন হবে ৪৭৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন রুপি, যা মোট পুনর্গঠন ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ।
এনডিআরআরএমএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ধর্মরাজ উপ্রেতি জানিয়েছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় ইউনিট থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।
উপ্রেতি বলেন, এটি এখনো প্রাথমিক হিসাব। তবে সড়ক বিভাগ, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো, কৃষি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য এতে যুক্ত করা হয়েছে। বন্যার আগে ও পরের পরিসংখ্যানও তুলনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগের আগে ও পরের পরিস্থিতি মূল্যায়নে ড্রোন দিয়ে জরিপ চালানো হয়। এরপর বিভিন্ন খাতের ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানের হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জ্বালানি ও পরিবহন খাত। মোট ৭৫৯ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার পাঁচটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গ্রিডব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে ৩৯০ দশমিক ৬২ বিলিয়ন রুপি প্রয়োজন হবে বলে সরকারি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্যার পানিতে ৬৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির স্রোতে ৩৩টি যান চলাচলযোগ্য সেতু ভেসে গেছে এবং আরও চারটি সেতু আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৬৪টি পদচারী সেতুর মধ্যে ৫৩টিও ক্ষতির শিকার হয়েছে। পরিবহন নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে ৭৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন রুপি।
রসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, গোরখা ও চিতওয়ান জেলায় বাড়িঘর, সরকারি ভবন এবং জরুরি সেবার অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ৭ হাজার ৫৭০টি ব্যক্তিগত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৪৮টি সরকারি ভবন, ১৮টি স্কুল, সাতটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৩০টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খাত পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন হবে ১০৩ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন রুপি।
উৎপাদনশীল খাতেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। বাণিজ্য, ব্যবসা, ব্যাংক ও কৃষিসহ এই খাত পুনরুদ্ধারে আরও ৫০ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন রুপি প্রয়োজন হবে। বন্যায় ১ হাজার ৮০৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের ১৭টি শাখা এবং প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাঁচ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি স্থানীয় ইউনিটের মধ্যে নুওয়াকোটের বিদুর পৌরসভায় বাড়িঘরের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা ৩ হাজার ২৬।
দুর্যোগঝুঁকি কমানো এবং নদীব্যবস্থাপনার জন্য ৯৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন রুপি প্রয়োজন হবে বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এ ছাড়া কাদা ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে প্রয়োজন হবে ৫১৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন রুপি।
সরকার পুনর্গঠন কার্যক্রমকে দুই পর্যায়ে ভাগ করেছে। আগামী ছয় মাসে জরুরি ত্রাণ এবং স্বল্পমেয়াদি পুনর্গঠনে ৮ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন রুপি ব্যয় হবে। দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন হবে ৭১৪ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন রুপি।
এনডিআরআরএমএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ধর্মরাজ উপ্রেতি বলেন, হাতে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান হিসাবটি তৈরি করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও বিস্তারিত পোস্ট-ডিজাস্টার নিডস অ্যাসেসমেন্ট (পিডিএনএ) প্রস্তুত করা হবে। এতে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞও যুক্ত থাকবেন।
চূড়ান্ত হিসাবে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়তে পারে বলেও জানান উপ্রেতি। সরকারের নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয় শনাক্ত হলে মোট ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। পুরো কোনো জনবসতি সরিয়ে নেওয়া কিংবা নতুন জমি কেনার প্রয়োজন হলে ব্যয় আরও বাড়বে। পরিবারের জিনিসপত্র ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিও হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত হিসাব খুব বেশি বাড়বে বলে তিনি মনে করেন না।
বন্যায় প্রায় ১৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে ১ হাজার ৩৭০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ১৩০ জন।
রসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিংয়ের ১৯টি স্কুলের ৬ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্কুলের অধিকাংশই পুনর্নির্মাণ করতে হবে। কিছু স্কুল মেরামত করেই ব্যবহার করা সম্ভব হবে। আটটি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও আটটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাত্র তিনটি স্কুল অক্ষত রয়েছে।
রসুয়ার চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এগুলো হলো স্যাফ্রুবেশি হেলথ পোস্ট, তিমুরে হেলথ পোস্ট, রাসুওয়াগাধির তিমুরে হেলথ ডেস্ক এবং মাইলুং কমিউনিটি হেলথ ইউনিট। গালছির বৈরেনি হাসপাতাল ও চৌরাউন্ডি বেসিক হেলথ সার্ভিস সেন্টার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নুওয়াকোটের ধুঙ্গে ও বিদুরের দুটি বর্জ্যপানি শোধনাগারও ধ্বংস হয়েছে। বন্যায় বিদুর পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার পাইপলাইন ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৪ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রিশুলি কলোনি, দেবীঘাট ও বেত্রাবতী পানি সরবরাহ প্রকল্পের ক্ষতির কারণে আরও ৪৬৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ল্যাংটাং জাতীয় উদ্যানের টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি, মাইলুং ও বান্দারে ভবন ও কার্যালয় পুরোপুরি অথবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুওয়াকোটের কৃষি উন্নয়ন কেন্দ্র এবং তিমুরের প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন অফিসও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে রাসুওয়াগাধি, রাসুওয়া-ভোটেকোশি, চিলিমে, ল্যাংটাং খোলা, আপার ত্রিশুলি-১, আপার ত্রিশুলি-২, আপার ত্রিশুলি-৩এ, আপার ত্রিশুলি-৩বি, মাইলুং খোলা, মধ্য ত্রিশুলি গঙ্গা, ত্রিশুলি, দেবীঘাট ও সুপার ত্রিশুলি।
জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প মিলিয়ে মোট ৭৮৩ দশমিক ৩৮৫ মেগাওয়াট স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের পাশাপাশি সাবস্টেশন এবং সঞ্চালন লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে মোট ১২ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন রুপি জমা হয়েছে। বন্যার পর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য নেপাল ও বিদেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সরকারের আহ্বানের পর এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে ওই তহবিল থেকে ১ বিলিয়ন রুপি ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটিকে দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পুনর্গঠন ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ যাবে অবকাঠামো খাতে। এ খাতে প্রয়োজন হবে ৪৭৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন রুপি, যা মোট পুনর্গঠন ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ।
এনডিআরআরএমএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ধর্মরাজ উপ্রেতি জানিয়েছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় ইউনিট থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।
উপ্রেতি বলেন, এটি এখনো প্রাথমিক হিসাব। তবে সড়ক বিভাগ, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো, কৃষি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য এতে যুক্ত করা হয়েছে। বন্যার আগে ও পরের পরিসংখ্যানও তুলনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগের আগে ও পরের পরিস্থিতি মূল্যায়নে ড্রোন দিয়ে জরিপ চালানো হয়। এরপর বিভিন্ন খাতের ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানের হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জ্বালানি ও পরিবহন খাত। মোট ৭৫৯ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার পাঁচটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গ্রিডব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে ৩৯০ দশমিক ৬২ বিলিয়ন রুপি প্রয়োজন হবে বলে সরকারি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্যার পানিতে ৬৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির স্রোতে ৩৩টি যান চলাচলযোগ্য সেতু ভেসে গেছে এবং আরও চারটি সেতু আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৬৪টি পদচারী সেতুর মধ্যে ৫৩টিও ক্ষতির শিকার হয়েছে। পরিবহন নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে ৭৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন রুপি।
রসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, গোরখা ও চিতওয়ান জেলায় বাড়িঘর, সরকারি ভবন এবং জরুরি সেবার অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ৭ হাজার ৫৭০টি ব্যক্তিগত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৪৮টি সরকারি ভবন, ১৮টি স্কুল, সাতটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৩০টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খাত পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন হবে ১০৩ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন রুপি।
উৎপাদনশীল খাতেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। বাণিজ্য, ব্যবসা, ব্যাংক ও কৃষিসহ এই খাত পুনরুদ্ধারে আরও ৫০ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন রুপি প্রয়োজন হবে। বন্যায় ১ হাজার ৮০৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের ১৭টি শাখা এবং প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাঁচ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি স্থানীয় ইউনিটের মধ্যে নুওয়াকোটের বিদুর পৌরসভায় বাড়িঘরের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা ৩ হাজার ২৬।
দুর্যোগঝুঁকি কমানো এবং নদীব্যবস্থাপনার জন্য ৯৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন রুপি প্রয়োজন হবে বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এ ছাড়া কাদা ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে প্রয়োজন হবে ৫১৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন রুপি।
সরকার পুনর্গঠন কার্যক্রমকে দুই পর্যায়ে ভাগ করেছে। আগামী ছয় মাসে জরুরি ত্রাণ এবং স্বল্পমেয়াদি পুনর্গঠনে ৮ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন রুপি ব্যয় হবে। দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন হবে ৭১৪ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন রুপি।
এনডিআরআরএমএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ধর্মরাজ উপ্রেতি বলেন, হাতে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান হিসাবটি তৈরি করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও বিস্তারিত পোস্ট-ডিজাস্টার নিডস অ্যাসেসমেন্ট (পিডিএনএ) প্রস্তুত করা হবে। এতে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞও যুক্ত থাকবেন।
চূড়ান্ত হিসাবে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়তে পারে বলেও জানান উপ্রেতি। সরকারের নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয় শনাক্ত হলে মোট ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। পুরো কোনো জনবসতি সরিয়ে নেওয়া কিংবা নতুন জমি কেনার প্রয়োজন হলে ব্যয় আরও বাড়বে। পরিবারের জিনিসপত্র ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিও হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত হিসাব খুব বেশি বাড়বে বলে তিনি মনে করেন না।
বন্যায় প্রায় ১৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে ১ হাজার ৩৭০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ১৩০ জন।
রসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিংয়ের ১৯টি স্কুলের ৬ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্কুলের অধিকাংশই পুনর্নির্মাণ করতে হবে। কিছু স্কুল মেরামত করেই ব্যবহার করা সম্ভব হবে। আটটি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও আটটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাত্র তিনটি স্কুল অক্ষত রয়েছে।
রসুয়ার চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এগুলো হলো স্যাফ্রুবেশি হেলথ পোস্ট, তিমুরে হেলথ পোস্ট, রাসুওয়াগাধির তিমুরে হেলথ ডেস্ক এবং মাইলুং কমিউনিটি হেলথ ইউনিট। গালছির বৈরেনি হাসপাতাল ও চৌরাউন্ডি বেসিক হেলথ সার্ভিস সেন্টার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নুওয়াকোটের ধুঙ্গে ও বিদুরের দুটি বর্জ্যপানি শোধনাগারও ধ্বংস হয়েছে। বন্যায় বিদুর পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার পাইপলাইন ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৪ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রিশুলি কলোনি, দেবীঘাট ও বেত্রাবতী পানি সরবরাহ প্রকল্পের ক্ষতির কারণে আরও ৪৬৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ল্যাংটাং জাতীয় উদ্যানের টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি, মাইলুং ও বান্দারে ভবন ও কার্যালয় পুরোপুরি অথবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুওয়াকোটের কৃষি উন্নয়ন কেন্দ্র এবং তিমুরের প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন অফিসও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে রাসুওয়াগাধি, রাসুওয়া-ভোটেকোশি, চিলিমে, ল্যাংটাং খোলা, আপার ত্রিশুলি-১, আপার ত্রিশুলি-২, আপার ত্রিশুলি-৩এ, আপার ত্রিশুলি-৩বি, মাইলুং খোলা, মধ্য ত্রিশুলি গঙ্গা, ত্রিশুলি, দেবীঘাট ও সুপার ত্রিশুলি।
জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প মিলিয়ে মোট ৭৮৩ দশমিক ৩৮৫ মেগাওয়াট স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের পাশাপাশি সাবস্টেশন এবং সঞ্চালন লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে মোট ১২ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন রুপি জমা হয়েছে। বন্যার পর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য নেপাল ও বিদেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সরকারের আহ্বানের পর এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে ওই তহবিল থেকে ১ বিলিয়ন রুপি ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটিকে দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

আপনার মতামত লিখুন