শুক্রবার বিকেলে টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এসব দাবি করেন ইয়াহিয়া সারি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও ‘পপুলার কমিটি’র মিত্র যোদ্ধারা দুই প্রদেশের ছয়টি জেলা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে সরিয়ে দিয়েছে।
সারি জানান, ‘আল্লাহ শক্তি ও শাস্তিদানে সর্বশ্রেষ্ঠ’ নামে পরিচালিত একটি বড় সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
হুথি মুখপাত্রের দাবি, তাদের সশস্ত্র বাহিনী ও মিত্ররা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সাতটি ডিভিশনকে পরাজিত করেছে। এসব ডিভিশনের অধীনে ছিল ৩৮টি ব্রিগেড। অভিযানের সময় আরও অনেক সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর পরিচালিত বন্দিশালায় অমানবিক পরিবেশে আটক থাকা বিপুলসংখ্যক বন্দিকে হুথি যোদ্ধারা মুক্ত করেছে বলেও জানান সারি।
হুথি মুখপাত্র আরও বলেন, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট মোট ৩২টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে সৌদি বাহিনীর অনুপ্রবেশকারী নয়টি বিমান শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সারি হুথি সশস্ত্র বাহিনীর নিহত এবং বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দেশ ও মাতৃভূমি রক্ষায় নিহত সদস্যদের ‘বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের’ প্রশংসাও করেন তিনি।
এদিকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের বিষয়েও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন হুথি মুখপাত্র। তিনি জানান, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের জাহাজের জন্য লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। তবে সৌদি আরবের পণ্যবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর রয়েছে।
ইয়েমেনের ওপর আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে এবং অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি চালু থাকবে বলেও জানান সারি।
তার হুঁশিয়ারি, এসব শর্ত পূরণ না হলে সৌদি সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে আগ্রাসনের মাত্রা বাড়লে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাল্টা হামলার পরিমাণও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে চলতি বছরের ২০ জুলাই হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানা সরকার ইয়েমেনের ওপর ‘অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধের’ প্রতিক্রিয়া হিসেবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কথা জানায়।
এরপর থেকে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্য করে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনার দাবি করে আসছে হুথি।
ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরবের সরাসরি অংশগ্রহণ শুরু হয় ২০১৫ সালের মার্চে। ওই সময় সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপের পাশাপাশি দেশটিতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে হাজার হাজার ইয়েমেনি প্রাণ হারিয়েছেন।
সূত্র: প্রেস টিভি

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার বিকেলে টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এসব দাবি করেন ইয়াহিয়া সারি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও ‘পপুলার কমিটি’র মিত্র যোদ্ধারা দুই প্রদেশের ছয়টি জেলা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে সরিয়ে দিয়েছে।
সারি জানান, ‘আল্লাহ শক্তি ও শাস্তিদানে সর্বশ্রেষ্ঠ’ নামে পরিচালিত একটি বড় সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
হুথি মুখপাত্রের দাবি, তাদের সশস্ত্র বাহিনী ও মিত্ররা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সাতটি ডিভিশনকে পরাজিত করেছে। এসব ডিভিশনের অধীনে ছিল ৩৮টি ব্রিগেড। অভিযানের সময় আরও অনেক সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর পরিচালিত বন্দিশালায় অমানবিক পরিবেশে আটক থাকা বিপুলসংখ্যক বন্দিকে হুথি যোদ্ধারা মুক্ত করেছে বলেও জানান সারি।
হুথি মুখপাত্র আরও বলেন, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট মোট ৩২টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে সৌদি বাহিনীর অনুপ্রবেশকারী নয়টি বিমান শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সারি হুথি সশস্ত্র বাহিনীর নিহত এবং বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দেশ ও মাতৃভূমি রক্ষায় নিহত সদস্যদের ‘বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের’ প্রশংসাও করেন তিনি।
এদিকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের বিষয়েও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন হুথি মুখপাত্র। তিনি জানান, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের জাহাজের জন্য লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। তবে সৌদি আরবের পণ্যবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর রয়েছে।
ইয়েমেনের ওপর আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে এবং অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি চালু থাকবে বলেও জানান সারি।
তার হুঁশিয়ারি, এসব শর্ত পূরণ না হলে সৌদি সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে আগ্রাসনের মাত্রা বাড়লে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাল্টা হামলার পরিমাণও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে চলতি বছরের ২০ জুলাই হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানা সরকার ইয়েমেনের ওপর ‘অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধের’ প্রতিক্রিয়া হিসেবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কথা জানায়।
এরপর থেকে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্য করে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনার দাবি করে আসছে হুথি।
ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরবের সরাসরি অংশগ্রহণ শুরু হয় ২০১৫ সালের মার্চে। ওই সময় সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপের পাশাপাশি দেশটিতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে হাজার হাজার ইয়েমেনি প্রাণ হারিয়েছেন।
সূত্র: প্রেস টিভি

আপনার মতামত লিখুন