ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

প্রেমিকার পেছনে সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ, সম্পর্ক ভাঙার পর ফেরত চেয়ে মামলা

প্রেমিকার পেছনে সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ, সম্পর্ক ভাঙার পর ফেরত চেয়ে মামলা
প্রেমিকার পেছনে সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ, সম্পর্ক ভাঙার পর ফেরত চেয়ে মামলা

প্রেমিকার জন্য প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৪১ হাজার ৯২৭ টাকা ব্যয় করেছিলেন সিঙ্গাপুরের এক ব্যক্তি। দামি উপহার দেওয়া, বিদেশ ভ্রমণের খরচ বহন, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের পারিশ্রমিক পরিশোধ থেকে শুরু করে জীবনবিমার প্রিমিয়াম—সবকিছুই নিজের অর্থে করেছিলেন তিনি। তবে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সেই অর্থ ফেরত দাবি করে সাবেক প্রেমিকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ওই ব্যক্তি। শেষ পর্যন্ত তার সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের আদালত।

সিঙ্গাপুর হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, চন্দর আগরওয়াল তার সাবেক প্রেমিকা ফেলিশিয়া লির পেছনে ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার ব্যয় করেছিলেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৪১ হাজার ৯২৭ টাকা। আদালতের মতে, আগরওয়াল নিজের ইচ্ছাতেই এসব অর্থ খরচ করেছিলেন। এগুলো ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণও তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।

লজিস্টিকস কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আগরওয়ালের সঙ্গে সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট লির পরিচয় হয় ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক স্থায়ী ছিল।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্ক শুরু হওয়ার আগেই লিকে বিভিন্ন দামি উপহার দিতেন আগরওয়াল। সম্পর্কের সময় সেই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। বিচারক লি সিউ কিনের ভাষ্য অনুযায়ী, আগরওয়াল লিকে দামি উপহারে প্রায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি এসব উপহারের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি লিকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

তবে সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। আগরওয়ালের সন্দেহ হয়, লি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। একপর্যায়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাদের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে।

এর কয়েক মাস পর, ২০২৪ সালের মার্চে আদালতের দ্বারস্থ হন আগরওয়াল। তার অভিযোগ ছিল, সম্পর্ক চলাকালে লি বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে সুদবিহীন ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার খরচ, বিদেশ ভ্রমণে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, লির অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ফেংশুই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১৭ হাজার ডলার এবং জীবনবিমার প্রিমিয়াম বাবদ ২০ হাজার ডলার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

তবে লি এসব অর্থকে ঋণ হিসেবে স্বীকার করেননি। তার দাবি, ভালোবাসা ও স্নেহের কারণে আগরওয়াল তাকে এসব অর্থ ও উপহার দিয়েছিলেন।

আদালতও লির বক্তব্যের পক্ষেই রায় দেন। বিচারক বলেন, আগরওয়ালের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করা হয়নি। লি এসব অর্থ ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন কিংবা পরবর্তী সময়ে তা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণও আগরওয়াল দেখাতে পারেননি।

রায়ে বিচারক আরও উল্লেখ করেন, উপস্থাপিত প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, আগরওয়াল লির প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিলেন এবং সম্পর্ক চলাকালে তাকে মূল্যবান উপহার দিতেন। কিন্তু সম্পর্ক তিক্তভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর লির কাছ থেকে আগে ব্যয় করা অর্থের ‘মূল্য’ আদায়ের বিষয়ে তিনি দৃঢ় অবস্থান নেন।

বিচারকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আগরওয়াল যথেষ্ট সম্পদের মালিক এবং তার জীবনযাপন ও পছন্দও ব্যয়বহুল। বিপরীতে লির আর্থিক সামর্থ্য আগরওয়ালের মতো ছিল না।

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, আগরওয়াল যখন লিকে দামি কোনো উপহার দেওয়ার কথা বলতেন, তখন লি অনেক সময় খুদে বার্তার মাধ্যমে বিস্ময় প্রকাশ করতেন। কিছু ক্ষেত্রে উপহার গ্রহণের বিষয়ে তার স্বতঃস্ফূর্ত অনীহাও দেখা গেছে।

রায়ের শেষাংশে বিচারক ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম কংগ্রেভের ‘দ্য মর্নিং ব্রাইড’ নাটকের একটি পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন। প্রেম ঘৃণায় রূপ নিলে সেই অনুভূতির তীব্রতা কতটা হতে পারে—সেই প্রসঙ্গেই উদ্ধৃতিটি আনা হয়। এরপর বিচারক বলেন, এ ধরনের আবেগ কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর খরচ করা অর্থ ফেরত চেয়ে মামলা করার ঘটনা সিঙ্গাপুরে এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে কেকে কাওশিগান নামের এক সিঙ্গাপুরের নাগরিক নোরা তান নামের এক নারীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন। সেখানে তিনি ৩০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি অর্থ দাবি করেছিলেন।

কাওশিগানের অভিযোগ ছিল, তান তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে সিঙ্গাপুরের আদালত তার করা দুটি মামলাই খারিজ করে দেন।

পরবর্তী সময়ে তানও কাওশিগানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। হয়রানি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে যে অর্থ তাকে ব্যয় করতে হয়েছিল, সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রেমিকার পেছনে সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ, সম্পর্ক ভাঙার পর ফেরত চেয়ে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

প্রেমিকার জন্য প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৪১ হাজার ৯২৭ টাকা ব্যয় করেছিলেন সিঙ্গাপুরের এক ব্যক্তি। দামি উপহার দেওয়া, বিদেশ ভ্রমণের খরচ বহন, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের পারিশ্রমিক পরিশোধ থেকে শুরু করে জীবনবিমার প্রিমিয়াম—সবকিছুই নিজের অর্থে করেছিলেন তিনি। তবে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সেই অর্থ ফেরত দাবি করে সাবেক প্রেমিকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ওই ব্যক্তি। শেষ পর্যন্ত তার সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের আদালত।

সিঙ্গাপুর হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, চন্দর আগরওয়াল তার সাবেক প্রেমিকা ফেলিশিয়া লির পেছনে ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার ব্যয় করেছিলেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৪১ হাজার ৯২৭ টাকা। আদালতের মতে, আগরওয়াল নিজের ইচ্ছাতেই এসব অর্থ খরচ করেছিলেন। এগুলো ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণও তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।

লজিস্টিকস কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আগরওয়ালের সঙ্গে সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট লির পরিচয় হয় ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক স্থায়ী ছিল।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্ক শুরু হওয়ার আগেই লিকে বিভিন্ন দামি উপহার দিতেন আগরওয়াল। সম্পর্কের সময় সেই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। বিচারক লি সিউ কিনের ভাষ্য অনুযায়ী, আগরওয়াল লিকে দামি উপহারে প্রায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি এসব উপহারের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি লিকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

তবে সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। আগরওয়ালের সন্দেহ হয়, লি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। একপর্যায়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাদের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে।

এর কয়েক মাস পর, ২০২৪ সালের মার্চে আদালতের দ্বারস্থ হন আগরওয়াল। তার অভিযোগ ছিল, সম্পর্ক চলাকালে লি বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে সুদবিহীন ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার খরচ, বিদেশ ভ্রমণে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, লির অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ফেংশুই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১৭ হাজার ডলার এবং জীবনবিমার প্রিমিয়াম বাবদ ২০ হাজার ডলার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

তবে লি এসব অর্থকে ঋণ হিসেবে স্বীকার করেননি। তার দাবি, ভালোবাসা ও স্নেহের কারণে আগরওয়াল তাকে এসব অর্থ ও উপহার দিয়েছিলেন।

আদালতও লির বক্তব্যের পক্ষেই রায় দেন। বিচারক বলেন, আগরওয়ালের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করা হয়নি। লি এসব অর্থ ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন কিংবা পরবর্তী সময়ে তা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণও আগরওয়াল দেখাতে পারেননি।

রায়ে বিচারক আরও উল্লেখ করেন, উপস্থাপিত প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, আগরওয়াল লির প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিলেন এবং সম্পর্ক চলাকালে তাকে মূল্যবান উপহার দিতেন। কিন্তু সম্পর্ক তিক্তভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর লির কাছ থেকে আগে ব্যয় করা অর্থের ‘মূল্য’ আদায়ের বিষয়ে তিনি দৃঢ় অবস্থান নেন।

বিচারকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আগরওয়াল যথেষ্ট সম্পদের মালিক এবং তার জীবনযাপন ও পছন্দও ব্যয়বহুল। বিপরীতে লির আর্থিক সামর্থ্য আগরওয়ালের মতো ছিল না।

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, আগরওয়াল যখন লিকে দামি কোনো উপহার দেওয়ার কথা বলতেন, তখন লি অনেক সময় খুদে বার্তার মাধ্যমে বিস্ময় প্রকাশ করতেন। কিছু ক্ষেত্রে উপহার গ্রহণের বিষয়ে তার স্বতঃস্ফূর্ত অনীহাও দেখা গেছে।

রায়ের শেষাংশে বিচারক ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম কংগ্রেভের ‘দ্য মর্নিং ব্রাইড’ নাটকের একটি পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন। প্রেম ঘৃণায় রূপ নিলে সেই অনুভূতির তীব্রতা কতটা হতে পারে—সেই প্রসঙ্গেই উদ্ধৃতিটি আনা হয়। এরপর বিচারক বলেন, এ ধরনের আবেগ কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর খরচ করা অর্থ ফেরত চেয়ে মামলা করার ঘটনা সিঙ্গাপুরে এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে কেকে কাওশিগান নামের এক সিঙ্গাপুরের নাগরিক নোরা তান নামের এক নারীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন। সেখানে তিনি ৩০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি অর্থ দাবি করেছিলেন।

কাওশিগানের অভিযোগ ছিল, তান তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে সিঙ্গাপুরের আদালত তার করা দুটি মামলাই খারিজ করে দেন।

পরবর্তী সময়ে তানও কাওশিগানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। হয়রানি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে যে অর্থ তাকে ব্যয় করতে হয়েছিল, সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রেমিকার পেছনে সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ, সম্পর্ক ভাঙার পর ফেরত চেয়ে মামলা
0:00 0:00
1.0x