ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আর্কাইভ দেখুন

৬১ দিনের বন্দিজীবনের স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৬১ দিনের বন্দিজীবনের স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০১৫ সালে গুমের শিকার হওয়ার পর ৬১ দিন বন্দি থাকা এবং পরবর্তী প্রায় নয় বছর ভারতের মেঘালয়ে নির্বাসিত জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভাটির প্রতিপাদ্য ছিল—‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’।বক্তব্যের একপর্যায়ে ভারতে একটি মানসিক হাসপাতালে কাটানো সময়ের কথা স্মরণ করে কেঁদে ফেলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমি বিদেশের মাটিতে পাগল অবস্থায় মারা যাব, আমার পরিবার হয়তো আমার কবরও দেখতে পারবে না—এমন ভয়ও পেয়েছিলাম।’নিজের গুমের সময়ের বন্দিজীবনের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজধানীর উত্তরা থেকে অপহরণের পর তাকে প্রায় আট ফুট লম্বা ও চার ফুট প্রশস্ত একটি অন্ধকার, সংকীর্ণ কক্ষে ৬১ দিন রাখা হয়েছিল। কক্ষটিতে ছিল একটি পানির কল এবং শৌচকার্যের জন্য নর্দমার সঙ্গে সংযুক্ত একটি সরু ছিদ্র। দুর্গন্ধ ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মেঝেতে একটি কম্বল ও বালিশ ব্যবহার করেই তাকে থাকতে হতো।তার ভাষ্য, কক্ষের দরজার ওপর থাকা সামান্য ফাঁক দিয়ে যে বাতাস ঢুকত, সেটিই ছিল তার জন্য একমাত্র স্বস্তি। দরজার বাইরে একটি বৈদ্যুতিক পাখা সারাক্ষণ চালু রাখা হতো। হৃদরোগে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও বন্দি অবস্থায় তিনি কোনো চিকিৎসা পাননি। অসুস্থ হয়ে পড়লে একপর্যায়ে চোখ বেঁধে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।ভারতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও বর্ণনা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, চোখ বাঁধা অবস্থায় প্রথমে মাইক্রোবাসে এবং পরে গভীর রাতে জিপে করে তাকে অজ্ঞাত একটি স্থানে নেওয়া হয়। দীর্ঘ যাত্রার পর হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থাতেই তাকে চামচ দিয়ে নুডলস খেতে দেওয়া হয়েছিল।বন্দি থাকায় বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তার পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এমনকি মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কামরুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবরও তিনি জানতেন না। বিষয়টি জানার পর জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাও বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।পরে ভোরের দিকে একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে অপহরণকারীরা মুখ ঢেকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। এরপর একটি বিলবোর্ড দেখতে পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং এলাকায় রয়েছেন।স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে একটি বেসামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্দেহে একটি মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মানসিক রোগীদের সঙ্গে তাকে রাখা হতো এবং জোর করে মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানো হতো বলে জানান তিনি। এমনকি তার চশমাও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।দাড়ি ও চুল কেটে দেওয়ার পর নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলার আশঙ্কায় তিনি আরও ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকেই তার স্ত্রীর ফোন আসে। ফোনে স্ত্রীর কান্নার শব্দ শুনে তিনি বুঝতে পারেন, তার পরিবার তার জীবিত থাকার খবর পেয়েছে।পরে সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় সাংবাদিকদের টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে নিজের পরিচয় জানিয়ে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন’।ভারতে অবস্থানকালে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত এবং ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালত তাকে খালাস দেন।ভারতে অবস্থানকালেই বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে সালাহউদ্দিন আহমদকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় নয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে তিনি বাংলাদেশে ফেরেন।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হওয়ায় ভারত থেকে আমি দেশে ফিরতে পেরেছি। যারা জুলাই যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একান্ত সচিবের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০১ সালে কক্সবাজার থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দলটির আন্দোলন পরিচালনার সময় ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনা নিয়ে সে সময় বিএনপি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। সূত্র: দৈনিক জনবানী


নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৪টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত অশ্বদিয়া ইউনিয়নের দিদিমণি বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনার কারণে সোনাপুর-বসুরহাট সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঘোষিত অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে পদপ্রত্যাশী ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি হলে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়।এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক


অফিসের সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমে জড়ান ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ, বলছে সমীক্ষা

অফিসের সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমে জড়ান ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ, বলছে সমীক্ষা

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা—দিনের দীর্ঘ একটি সময় কর্মস্থলেই কাটে অনেক মানুষের। একই জায়গায় দীর্ঘ সময় কাজ করা, অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা এবং কাজের চাপ ভাগ করে নেওয়ার কারণে অনেক সময় সহকর্মীর প্রতি তৈরি হয় ভালো লাগা। ফোর্বস অ্যাডভাইজারের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে ৬০ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন।সমীক্ষায় অফিসে প্রেমের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘স্বাচ্ছন্দ্য’ বা কমফর্টেবিলিটি। প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষের মত, পরিচিত পরিবেশে পছন্দের মানুষের সঙ্গে কাজ করা তুলনামূলক সহজ। অন্যদিকে ৬১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, কর্মস্থলের বাইরে নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মতো যথেষ্ট সময় তাদের হাতে থাকে না। প্রায় ৫৯ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে একই কর্মপরিবেশ ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।সাফল্য ও জটিলতার দুই দিকঅফিসে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ককে অনেকেই স্বল্পস্থায়ী বলে মনে করেন। তবে সমীক্ষার ফলাফল ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। এতে দেখা গেছে, ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের তুলনায় কর্মক্ষেত্রে তৈরি সম্পর্ক অনেক সময় বেশি স্থায়ী হতে পারে।সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৪৩ শতাংশ অফিস রোমান্স শেষ পর্যন্ত বিয়েতে রূপ নেয়। তবে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই সম্পর্কের কারণে মানুষ তাদের বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা বা ‘চিটিং’ করেছেন। আবার সম্পর্কের কারণে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ চাকরিও পরিবর্তন করেছেন।পেশাদারিত্বে কতটা প্রভাব পড়ে?কর্মক্ষেত্রে প্রেমের প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব কাজ ও ক্যারিয়ারেও পড়তে পারে।কর্মক্ষমতা: প্রায় ৫৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তাদের কাজের ওপর প্রভাব ফেলে।ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভারসাম্য: সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর পর কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন ৫৪ শতাংশ মানুষ।সহকর্মীদের আচরণ: প্রায় ৫২ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অফিসের অন্য সহকর্মীরা ওই যুগলকে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করেন। আর প্রায় ৪৬ শতাংশ ক্ষেত্রে বিষয়টি অফিসে গসিপ বা পরচর্চার কারণ হয়ে ওঠে।বিচ্ছেদ হলে কী হয়?অফিস রোমান্স আনন্দের অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে, আবার বিচ্ছেদের আশঙ্কাও থাকে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সাধারণ সম্পর্কের তুলনায় অফিস রোমান্সে বিচ্ছেদের ভয় ১৭ শতাংশ বেশি।এ কারণে প্রায় ৩০ শতাংশ দম্পতি আগেই একটি ‘ব্রেকআপ প্ল্যান’ তৈরি করে রাখেন। সম্পর্ক ভেঙে গেলেও যাতে কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই তারা এমন পরিকল্পনা করেন।প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাঅফিস রোমান্সের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ তাদের সম্পর্কের বিষয়টি এইচআর বিভাগকে জানান।অন্যদিকে মাত্র ১৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো অপেশাদার আচরণ। তবে কর্মক্ষেত্রে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কর্মীদের প্রেম বা সম্পর্ক নিয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা বা পলিসি তৈরি করছে। সূত্র: কালবেলা/এটিআর


পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ নিয়ে বিশকেকে বৈঠকে পুতিন-জিনপিং

পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ নিয়ে বিশকেকে বৈঠকে পুতিন-জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বৈঠকে বসবেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পসহ দুই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুধু রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে অনুষ্ঠিতব্য ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ৩১ আগস্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হবে।চলতি বছরে পুতিন ও জিনপিংয়ের মধ্যে এটি হবে দ্বিতীয় সরাসরি সাক্ষাৎ। এর আগে মে মাসে পুতিনের বেইজিং সফরের সময় দুই নেতা বৈঠক করেছিলেন। এবার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ হলো রাশিয়া থেকে চীনে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য পরিকল্পিত একটি পাইপলাইন প্রকল্প। প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার ইয়ামাল অঞ্চলের গ্যাসক্ষেত্র থেকে মঙ্গোলিয়া হয়ে চীনে বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।প্রকল্পটি নিয়ে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে বহু বছর ধরে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। গ্যাসের দাম, অর্থায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহের শর্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা প্রয়োজন হওয়ায় প্রকল্পটির অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরেই ধীরগতির।চলতি বছরের মে মাসে পুতিনের বেইজিং সফরের সময় রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছিলেন, প্রকল্পটির কয়েকটি চুক্তি চূড়ান্ত সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে। তবে এরপরও চীনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।বিশকেকে পুতিন-জিনপিংয়ের বৈঠকে প্রকল্পটি আলোচনায় আসায় এর ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ক্রেমলিন এখনো জানায়নি যে এই বৈঠকেই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বরং প্রকল্পটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে বলেই জানানো হয়েছে।রাশিয়ার কাছে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি প্রকল্প। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপের বাজারে রুশ জ্বালানি রপ্তানির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় এশিয়ার বাজার, বিশেষ করে চীন, মস্কোর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।পাইপলাইনটি বাস্তবায়ন হলে চীনে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ বাড়বে। পাশাপাশি ইউরোপের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির বড় একটি অংশ আরও বেশি করে এশিয়ার বাজারমুখী হতে পারে।অন্যদিকে চীনের জন্য রাশিয়া থেকে স্থলপথে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির সুযোগ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিলে স্থলপথভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা চীনের জ্বালানি নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ চালু হলে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি অবকাঠামো আরও পূর্বদিকে বিস্তৃত হবে এবং চীনের বাজারে রুশ গ্যাসের সরবরাহও বাড়বে। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, বিনিয়োগের কাঠামো, মঙ্গোলিয়ার ভূখণ্ড দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির শর্ত।চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও প্রকল্পটির গুরুত্ব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থলপথে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির পরিমাণ বাড়ানো বেইজিংয়ের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিওর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পুতিন ও জিনপিংয়ের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, ইরান, বেলারুশ এবং মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেবেন।এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন ও জিনপিংয়ের বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।এরপর ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রাশিয়া ও চীনের জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এ কারণে বিশকেকে পুতিন-জিনপিংয়ের বৈঠক দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইউরেশিয়ার ভবিষ্যৎ জ্বালানি বাণিজ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।তবে গ্যাসের মূল্য ও সরবরাহের শর্তসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তাই বৈঠকে আলোচনা হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরও সময় প্রয়োজন হতে পারে। তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও রয়টার্স


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৫ বছরের তেল চুক্তি হলেও সার্বভৌমত্ব থাকবে অক্ষুণ্ন: রদ্রিগেজ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৫ বছরের তেল চুক্তি হলেও সার্বভৌমত্ব থাকবে অক্ষুণ্ন: রদ্রিগেজ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি তেল চুক্তি হলেও ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।রদ্রিগেজ বলেন, চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পরিচালনাগত দক্ষতা কাজে লাগানো হলেও দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ভেনেজুয়েলার কাছেই থাকবে।চুক্তির আওতায় প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলসম্পদ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাত সম্প্রসারণের জন্য আটটি নতুন তেল ব্লক উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।রদ্রিগেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে প্রায় ১৯ ডলার ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। এ ব্যবস্থার ফলে বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ২০৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় তেলের বাজারমূল্য ও উৎপাদনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে।ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বলেন, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তেলশিল্প পুনর্গঠনের জন্য বিদেশি পুঁজি ও প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ সহযোগিতা গ্রহণের পরও দেশের সম্পদের ওপর ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম অধিকার অটুট থাকবে।এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভেনেজুয়েলার তেল খাত নিয়ে একটি চুক্তির কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শেভরনসহ কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন অনুসন্ধান ও উৎপাদন চুক্তি করার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।তবে তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বেশি নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন, সেখানে রদ্রিগেজ স্পষ্ট করেছেন যে ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব দেশের হাতেই থাকবে।২৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে তেলক্ষেত্র উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো আধুনিকায়নে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পকে পুনরায় সক্রিয় করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে কারাকাস।বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। তবে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট, নিষেধাজ্ঞা ও পুরোনো অবকাঠামোর কারণে দেশটির তেল উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে সেই সক্ষমতা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও চুক্তিটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়লে পশ্চিম গোলার্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল সরবরাহের সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কৌশলেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে চুক্তিটির সম্পূর্ণ আইনি ও আর্থিক কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর বিদেশি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে এবং রাষ্ট্রের অংশগ্রহণের পরিমাণ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।রদ্রিগেজের সরকার বলছে, বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির সহায়তায় তেলশিল্প পুনর্গঠন করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ভেনেজুয়েলার কাছেই থাকবে। তাঁর বক্তব্যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।চুক্তিটি কার্যকর হলে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার সরকারি রাজস্বও বাড়তে পারে। তবে বড় পরিসরের বিনিয়োগ, অবকাঠামো সংস্কার, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি—এসব বিষয় চুক্তির সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তি নিয়ে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের সমর্থকেরা এটিকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা বিদেশি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণের ফলে দেশের কৌশলগত সম্পদের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তুলতে পারেন।তবে রদ্রিগেজ স্পষ্টভাবে বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি গ্রহণ করা হলেও ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স


নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে পৌঁছেছে। একই ঘটনায় এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৭৩৪ জন এবং তিব্বতে ১৬ জন মারা গেছেন।চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং এলাকায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে নেপালের ১০৪, ভারতের ৪৯, লাটভিয়ার ৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ এবং যুক্তরাজ্যের ১৫ নাগরিক রয়েছেন।নেপালে মৃতের সংখ্যা ৭৩৪ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২ হাজার ৪৯৮ বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজদের মধ্যে ৩১টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ভারতের ১৭৮, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, ইউক্রেনের ৫৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন।দুর্যোগের পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং নদীর পানি আবারও বাড়ার আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে।নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রোববার সকালে সতর্ক করেছে, রাসুয়া জেলায় ভোতেকোশী নদীর পানির প্রবাহ আরও বেড়েছে। এতে উদ্ধারকারী দলগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দুর্গত এলাকায় কাজের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হলো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার। ত্রিশুলি-৩এ ও ত্রিশুলি-৩বি প্রকল্পের বিভিন্ন টানেলে এখনো শতাধিক মানুষ আটকা থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।শনিবার রাতে নেপাল সেনাবাহিনী ত্রিশুলি-৩এ প্রকল্পের একটি টানেলের ভেতরে ছোট একটি পাইপ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। ওই পাইপের মাধ্যমে টানেলের ভেতরে বাতাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এরপর আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে খননকাজ শুরু এবং উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুঙ জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে বাতাস পাঠানোর পর উদ্ধার অভিযানের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। আটকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।নেপালের অনুরোধের পর চীনও টানেল উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। মোট নয়জন চীনা বিশেষজ্ঞ নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্ধার অভিযানে কারিগরি সহায়তা করছেন। ধসে পড়া ও কাদায় বন্ধ হয়ে যাওয়া টানেলে কীভাবে প্রবেশ করা যায়, তা নির্ধারণে তারা নেপালি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কাজ করছেন।তিব্বতের গিরং সীমান্ত এলাকাতেও বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চলছে। ভূমিধসের জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে গিরং বন্দর সীমান্তচৌকি পর্যন্ত যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন চীনা প্রকৌশলী ও উদ্ধারকারীরা।সীমান্তমুখী সড়কের বিভিন্ন অংশ প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত কাদায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের মাটি পুরোপুরি ধুয়ে গেছে। ভারী যন্ত্রপাতি ও খননযন্ত্র ব্যবহার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।উদ্ধার তৎপরতায় চীন ভারী সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ড্রোন এবং দুর্গম এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। তিব্বতের সামরিক কমান্ডও খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী ও উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে।দুর্যোগের পর ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে একাধিক অস্থায়ী হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হ্রদ ভেঙে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে চীনের জলবিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি বাধা অনেকটাই সরে যাওয়ায় নদীর পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে হ্রদভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমেছে।তবে নতুন করে আরও একটি বড় জলাধার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া হিমবাহের কাছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটারের একটি জলাধার তৈরি হচ্ছে। আশপাশে ঝুলন্ত বরফের স্তরেও ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় ভূমিধস বা আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় চীনের তিব্বত অংশে উদ্ধার অভিযান একপর্যায়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও উদ্ধারকাজ শুরু হয়। গিরং সীমান্তচৌকির কাছে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই গ্রামবাসীকে জীবিত উদ্ধারের খবরও পাওয়া গেছে।নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ নিখোঁজ স্বজনের ছবি নিয়ে হাসপাতালে ঘুরছেন, আবার কেউ নিখোঁজদের তালিকায় আপনজনের নাম খুঁজছেন। অনেক পরিবার এখনো স্বজনদের কোনো খবর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শশীর খানাল জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটির পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ভারী সরঞ্জাম, বিশেষায়িত প্রযুক্তি, মরদেহ শনাক্তকরণ ও সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩১টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি কর্মীরাও রয়েছেন।নেপাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও উদ্ধার তৎপরতায় স্যাটেলাইট এবং নদীর পানির তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা করেছেন। দুর্যোগের পর নতুন ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং উদ্ধারকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হিসেবে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত নেমে আসাকে দায়ী করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর পানির স্তর হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার সড়ক, সেতু, বসতি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এবারের নির্দিষ্ট হিমবাহ ধসের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা কতটা ছিল, তা নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের প্রচেষ্টাও চলছে। নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কার মধ্যে উদ্ধারকারী দলগুলোকে দ্রুততার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হচ্ছে।মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাবের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। উদ্ধার অভিযান এবং তথ্য যাচাই চলমান থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট


যুদ্ধ চায় না ইরান, তবে আগ্রাসন হলে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ: পেজেশকিয়ান

যুদ্ধ চায় না ইরান, তবে আগ্রাসন হলে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ: পেজেশকিয়ান

ইরান যুদ্ধের পক্ষে নয়। তবে কোনো দেশ বা শক্তি আগ্রাসন চালালে সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিরোধে অটল কোনো জাতিকে জোর করে আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব নয়।পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি এবং যুদ্ধকে স্বাগতও জানায়নি। কিন্তু কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার হলে ইরান দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করবে। কূটনৈতিক উদ্যোগ, জনগণের সমর্থন, সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং সশস্ত্র বাহিনীর আত্মত্যাগ দেশকে শক্তিশালী করছে বলেও জানান তিনি।এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে। ইরানের অনুমোদন ও সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজকে এই জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে বলেও দাবি করেন গারিবাবাদি।তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেই সেটি কার্যকর হবে। গারিবাবাদির দাবি, ওই সমঝোতার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রই লঙ্ঘন করেছে। ফলে তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও ওয়াশিংটনের।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরুর উদ্যোগে পাকিস্তান ও কাতারের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন গারিবাবাদি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশ দুটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তেহরানের আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং সংঘাত নিরসনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও ওমান একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর বিষয়েও আলোচনা করছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জাহাজ চলাচল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সমন্বয়ের কথা রয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব


এভাবে চিকিৎসা চললে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, সন্তান জন্মের পর মা-নবজাতকের মৃত্যু

এভাবে চিকিৎসা চললে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, সন্তান জন্মের পর মা-নবজাতকের মৃত্যু

ভারতের মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর এক নারী ও তার নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে ওই নারীর কান্না ও অসহায় অবস্থার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, মৃত নারীর নাম কল্পনা মিশ্র। তার বয়স ২৫ বছর। প্রথম সন্তান প্রসবের জন্য গত ২৫ আগস্ট রাতে তাকে রেওয়ার সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। এর কিছুক্ষণ পরই কল্পনা ও তার নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়।মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে কল্পনাকে কাঁদতে ও চিৎকার করতে দেখা যায়। তিনি স্বজনদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে চাইছিলেন। এ সময় কয়েকজন নার্স তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করেন।ভিডিওতে কল্পনাকে বলতে শোনা যায়, ‘এভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি বাঁচব না। দয়া করে আমাকে বাঁচান, আমার জীবন ঝুঁকিতে।’পরিবারের অভিযোগ, কল্পনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসকরা বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি। তার বাবা রামশরণ মিশ্র বলেন, মেয়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তাকে দেখার জন্য তিনি চিকিৎসকদের বারবার অনুরোধ করেছিলেন। তবে তার অনুরোধ যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।পরিবারের আরও অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর কল্পনার আর জ্ঞান ফেরেনি। তাকে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার।মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানিয়েছেন কল্পনার বাবা। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তিনি।ঘটনার পর কল্পনার স্বজনরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় প্রায় চার ঘণ্টা হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ছিল।পরে হাসপাতালের ডিন সুনীল আগরওয়াল এবং হাসপাতাল সুপার রাহুল মিশ্র ঘটনাস্থলে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর পরিবার মরদেহের ময়নাতদন্তে সম্মতি দেয়।এরপর দায়িত্বে থাকা দুই নার্স সাধনা ভার্মা ও সীমা মুজালদেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনার সার্বিক তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও দায় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হাসপাতালের ডিন সুনীল আগরওয়াল বলেন, মা ও শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারের পক্ষ থেকে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর কল্পনার কেন জ্ঞান ফেরেনি, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।তবে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ নাকচ করেছেন হাসপাতালের সুপার রাহুল মিশ্র। তার ভাষ্য, চিকিৎসার নিয়ম মেনেই কল্পনাকে সেবা দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। তবে পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।এ ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জনবল সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ২০২৫-২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রায় ৭২ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে।রাজ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৫ হাজার ৪৪৩টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১ হাজার ৪৯৫ জন। অর্থাৎ খালি রয়েছে ৩ হাজার ৯৪৮টি পদ।শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নয়, মেডিকেল অফিসারের পদেও রয়েছে ঘাটতি। ৬ হাজার ৫১৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ২ হাজার ৬৮৯টি পদ শূন্য রয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক


গুম মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, প্রতিটি ঘটনার বিচার চলছে: প্রধানমন্ত্রী

গুম মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, প্রতিটি ঘটনার বিচার চলছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স অন্যতম ভয়াবহ অপরাধ। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্তের আওতায় এনে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাঁর বাণীটি প্রকাশ করা হয়েছে।বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানান।তিনি বলেন, গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘনগুলোর একটি। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপ্রবণ এলাকায় এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। অনেক সময় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী অথবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের দমনে এমন নির্মম ও নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করে।প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম ও অপহরণের অমানবিক কৌশল গ্রহণ করেছিল। গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট আমলের এসব গোপন বন্দিশালা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি লাভ করে।দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কাজে লাগিয়ে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক হিসেবে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স প্রতিরোধে একটি পৃথক আইনি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও সংসদে উত্থাপিত হয়েছে।সরকার আশা করছে, উত্থাপিত বিলগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম বা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধে জড়ানোর সুযোগ পাবে না।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গুম বা অপহরণকে শুধু একটি পরিসংখ্যান কিংবা একজন মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বোঝা যায় না। এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও আকাঙ্ক্ষাও ধ্বংস হয়ে যায়। পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় থমকে যায়। গুম হওয়া স্বজনের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো এমন এক অনিশ্চিত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দিন কাটায়, যার কোনো সমাপ্তি নেই এবং স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যক্রমে কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, রাষ্ট্র বা সরকারের মাধ্যমে সংঘটিত গুম কিংবা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে সচেতন রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভিকটিমস ফার্স্ট, অ্যাকশনস নাউ’। গুমের মতো মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্ববাসীর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।


হুজুররা হাসনাতের বেলায় সরব, বিএনপির বেলায় নীরব’: মাদানী

হুজুররা হাসনাতের বেলায় সরব, বিএনপির বেলায় নীরব’: মাদানী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য এবং আলেমদের প্রতিক্রিয়ার তুলনা করেছেন শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানী।হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার কারণেই তার বক্তব্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেমরা কষ্ট পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান রফিকুল ইসলাম মাদানী।পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন—ফজলুর রহমান, রুমিন ফারহানা বা অন্য কেউ বক্তব্য দিলে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না, হাসনাতের ক্ষেত্রে হুজুররা সেভাবে ‘চেতেছে’। এর মাধ্যমে ‘ফান্ডিং আন্দোলন’ করা হচ্ছে—এমন ধারণা দেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।এর জবাবে মাদানী প্রশ্ন করেন, রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমানের ডাকে ‘বাই রাজুতে আসেন’ বলার পর কোনো মাদ্রাসাছাত্র শাহবাগে গিয়েছিল কি না। একইভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে কার আহ্বানে স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রসঙ্গে মাদানী বলেন, একদিন হাসনাত তাকে ফোন করে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিতে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিষয়টি তাকে অবাক করেছিল, কারণ হাসনাত তার ফোন নম্বর কোথা থেকে পেয়েছিলেন, তা তিনি জানতেন না।মাদানী বলেন, পরে সঙ্গে থাকা লোকজনকে নিয়ে তিনি ঢাকায় যান। সেখানে শাহবাগে অনেক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকেও উপস্থিত দেখতে পান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর হাসনাতের আমন্ত্রণে তার বাড়িতে আয়োজিত মাহফিলেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান।অন্যদিকে রুমিন ফারহানা ও ফজলুর রহমানকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন মাদানী। তাদের ‘বাইরের এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমানের মতো লোক পায়ে ধরে সারাদিন পড়ে থাকলেও তারা কোথাও যাবেন না। তাদের বাইরের এজেন্ট মনে করেন তারা। তাদের বক্তব্যের প্রতিবাদ কখনো করেন, আবার কখনো করেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।মাদানী আরও দাবি করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নাহিদ ইসলাম মাদ্রাসা কিংবা মসজিদে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের মানুষ হিসেবে মনে করেন এবং সম্মান ও ভালোবাসা দেখান।তিনি লেখেন, ‘এখন সেই মানুষগুলো যখন সংসদের মতো জায়গায় এভাবে না জেনে, না শুনে বক্তব্য দিলে কষ্ট তো লাগবেই!’মাদানীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে থাকা ‘শাহবাগী মার্কা কথা বলা’ ব্যক্তিদের বক্তব্যে আলেমদের তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। কারণ, তার মতে, এসব ব্যক্তিকে তারা ‘চিহ্নিত’ হিসেবে মনে করেন।তবে যাদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং যাদের সঙ্গে ভালোবাসা ও সম্পর্ক রয়েছে, তারা এমন কিছু করলে সেটিকে ‘বেঈমানী’ হিসেবে দেখেন বলে জানান মাদানী।পোস্টের শেষ দিকে তিনি লেখেন, ‘ওপেন শত্রুতা সহ্য হয়, মোনাফেকি না!’ সূত্র: ইত্তেফাক


এটা আমাদের ঘরের বিষয়, দুঃখ প্রকাশ করে ওস্তাদদের দোয়া নিয়েছি, সমাধান হয়েছে’

এটা আমাদের ঘরের বিষয়, দুঃখ প্রকাশ করে ওস্তাদদের দোয়া নিয়েছি, সমাধান হয়েছে’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মী ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধের সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় গিয়ে কওমি ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা জানান।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। জুলাই আন্দোলনে তারা একসঙ্গে ছিলেন। ওস্তাদরা তাদের তালেব হিসেবে মনে করেন। অনেক আলেম তাদের দুঃখ প্রকাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। দুঃখ প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয়ে যায় না। এ কারণেই তারা এখানে এসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ওস্তাদদের দোয়া নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।তিনি বলেন, ছাত্রদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে—হাসনাত আব্দুল্লাহ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেই বিষয়ে সঠিক তথ্য আবার সংসদে উপস্থাপন করতে হবে।তিনি আরও বলেন, আলেম-ওলামাদের সঙ্গে তারা রাজপথে ছিলেন। যেহেতু তারা সবাই একই ঘরের, তাই আলেমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেছেন। পরে হাসনাত আব্দুল্লাহও তার বক্তব্যের জন্য ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘অনেকে বাইরে থেকে উল্লাস করছেন। তাদের বলতে চাই, এটা আমাদের ঘরের সমস্যা। এর সমাধান হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝিরও অবসান ঘটেছে।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবসময় শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি মাদরাসার ছাত্রদের পাশে দাঁড়াননি। তাদের পক্ষে সুষ্ঠু বিচারও করেননি।’ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রতি পুলিশ ও মাদরাসাছাত্রদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মূল বিষয় ছিল মাদরাসাছাত্ররা পুলিশ লাইন্সে গানের অনুষ্ঠান বন্ধ করেনি। বরং পুলিশ ৩০ জন মাদরাসাছাত্রকে আহত করেছে।বৈঠকে মাদরাসার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মুহতামিম মুফতি মোবারক উল্লাহ, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আলী আকবর এবং কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা খালেদ সাইফুল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


বর্তমান সরকারের ছয় মাসে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা বা রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের ছয় মাসে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা বা রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বাগেরহাটের মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে বনদস্যুদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের নিজেদের মধ্যকার বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।মিরাজ শেখকে গুম করা হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিরাজ শেখের রেকর্ডও সেই রকম। তার বাবা ও দাদার রেকর্ডও একই রকম। এ বিষয়ে এর বেশি বিস্তারিত আর বলতে চাই না।’শনিবার রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে অতীতে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেবল কমিশন গঠন করলেই গুমের সমস্যার সমাধান হবে না। প্রতিটি ভুক্তভোগী যেন আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিচার ও প্রতিকার পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ করা হয়েছে। এ আইনে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি এবং তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।আইনের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ফিরে না এলে তার উত্তরাধিকারীরা যেন সম্পত্তির অধিকার পান এবং পরিবার পরিচালনা করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে।দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাবও আইনে রয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।আইনটি নিয়ে কারও পরামর্শ কিংবা সংশোধনের প্রস্তাব থাকলে তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষ, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মিশন এবং মানবাধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আইনটি সংশোধন করা যাবে।জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটিও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কারে কাজ করছে। বাহিনীগুলোর মনোবল ও পেশাদারত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি শাস্তি ও পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনী, গোয়েন্দা সহায়তা এবং সাইবার গোয়েন্দা সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাহিনীর ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অনুষ্ঠানে মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন। তিনি বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়েছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল তথ্যও যাচাই করা হয়েছে।নূর খান লিটন বলেন, সবকিছু পর্যালোচনা করে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা দেখতে পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং অভিযোগ অস্বীকার করতে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।অতীতে গুমের শিকার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে নূর খান লিটন বলেন, গুমের শিকার একজন ব্যক্তি প্রতিটি মুহূর্ত অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুভয়ের মধ্যে কাটান। রাজনৈতিক কারণে তাদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য সেই কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।নতুন আইন প্রসঙ্গে নূর খান বলেন, গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের দায়িত্ব কোনোভাবেই অভিযুক্ত বাহিনীর অধীনে থাকা উচিত নয়। মানবাধিকার কমিশনের অধীনে, পুলিশের বাইরে কোনো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো স্বতন্ত্র ব্যবস্থায় তদন্ত পরিচালনা করতে হবে।মিরাজ শেখের ঘটনায় পুলিশ ও কোস্টগার্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগে গুমের শিকার পরিবারগুলো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটালেও এখন তারা সম্মানের সঙ্গে দিবসটি পালন করছেন। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক মানের গুমবিরোধী এবং মানবাধিকার কমিশন আইন করেছে। এতে কোনো ফাঁকফোকর রাখা হয়নি।তিনি বলেন, প্রধান মাস্টারমাইন্ডরা কারাগারে রয়েছে। সঠিক বিচারের মাধ্যমে গুমের এই সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান হবে।সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান অভিযোগ করেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের ১৪, ১৯ ও ২১ নম্বর ধারা স্বাধীন তদন্তের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি অবিলম্বে এসব ধারা বাদ দেওয়ার দাবি জানান।গুমের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে পর্যাপ্ত তহবিল ও জনবল নিশ্চিত করার কথাও বলেন আহমাদ বিন কাসেম। পাশাপাশি গুমের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সম্মানজনক অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদেরও নানা ধরনের হয়রানি ও বঞ্চনার মুখে পড়তে হয়েছে। তাদের চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং শিক্ষার সুযোগও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এমনকি তাদের ব্যাংক হিসাব নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।তিনি বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদের ভয় দেখানো হয়েছে। এখন প্রস্তাবিত আইনে গুমের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র তদন্তব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।নিখোঁজ বাবা পারভেজ হোসেনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মেয়ে আদিবা ইসলাম। তিনি বলেন, তার বাবার শেষ পরিণতি কী হয়েছে, সেটি তারা জানতে চান। বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। বাবা কোথায় আছেন, কেমন আছেন—কোনোটিই তারা জানেন না।তিনি বলেন, দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে তারা ক্লান্ত। এভাবে অপেক্ষা ও কান্নার মধ্যে আর থাকতে চান না তারা। বাবার বিষয়ে দ্রুত একটি জবাব চান তারা।অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের হিউম্যান রাইটস অফিসার জাহিদ হোসেন, নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসান এবং গুমের শিকার বিভিন্ন ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা।আলোচনা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান’ নিয়ে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’। ‘যতদিন না তারা ফিরছে’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীর সমন্বয় করে নেত্র নিউজ। সূত্র: সুখবর


মোংলার মিরাজসহ গুমের শিকার সবাইকে খুঁজে বের করার দাবি নাহিদ ইসলামের

মোংলার মিরাজসহ গুমের শিকার সবাইকে খুঁজে বের করার দাবি নাহিদ ইসলামের

বাগেরহাটের মোংলায় ‘গুমের শিকার’ মিরাজ শেখসহ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিখোঁজ হওয়া সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ঘটনার সত্য তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি গুমের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। গুম প্রতিরোধ আইনে অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের স্পষ্ট ব্যবস্থা রাখতে হবে।৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে বাংলাদেশে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি ভয়াবহ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বিরোধী দল ও মতের বহু নাগরিক। তাঁদের অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনেরা বছরের পর বছর ধরে প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত অন্ধকার প্রকোষ্ঠে অসংখ্য মানুষকে আটকে রেখে যে অমানবিক ও পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা বিশ্ব মানবতাকে লজ্জিত করেছে।তিনি বলেন, গুম হওয়া স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘশ্বাস এবং বছরের পর বছর ধরে চলা অপেক্ষার বেদনার মধ্য দিয়েই ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ এসেছে।নাহিদ ইসলাম বলেন, বিপ্লবের পরও বাংলাদেশে অনেক পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এখনো গুমের শিকার বহু মানুষের কোনো সন্ধান মেলেনি। মোংলার কারাগারে মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগও গভীর উদ্বেগের বিষয়।তিনি বলেন, অতীতে গুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হলেও বর্তমান সরকারের সংসদে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব উদ্যোগে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, প্রতিটি গুমের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশে গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়।দেশে ভবিষ্যতে যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের সংস্কৃতি আর ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, গুমের শিকার প্রতিটি ব্যক্তির পরিবারের কান্নার জবাব দিতে হবে। সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সূত্র: ইনসাফ ২৪


সড়ক দুর্ঘটনার কবলে অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা

সড়ক দুর্ঘটনার কবলে অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা

নাটকের শুটিং শেষ করে শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা। তবে দুর্ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।রোববার (৩০ আগস্ট) রাত পৌনে ১টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানান তিশা।অভিনেত্রী জানান, শ্রীমঙ্গলে নাটকের শুটিং শেষ করে সহকর্মীদের সঙ্গে গাড়িতে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। পথে ভৈরব ব্রিজ পার হওয়ার পর টোল প্লাজার কাছাকাছি এলাকায় একটি পিকআপ তাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়।দুর্ঘটনার পর পিকআপটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে তিশাসহ তার সহকর্মীরা মোটরসাইকেলে করে পিকআপটির পিছু নেন। একপর্যায়ে পিকআপটি আটক করা সম্ভব হয় বলে জানান তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশও উপস্থিত হয়।ফেসবুক লাইভে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাসনুভা তিশা বলেন, দুর্ঘটনাটি বেশ গুরুতর ছিল। তবে অল্পের জন্য তারা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিয়ে নিরাপদে ঢাকার পথে রওনা হন তারা।


দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার মিলন হত্যার আসামী জামাল

দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার মিলন হত্যার আসামী জামাল

ঝালকাঠির রাজাপুরে আলোচিত মিলন হত্যা মামলার অন্যতম আসামী জামাল হোসেনকে (২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর দেশত্যাগের সময় গতকাল শনিবার রাতে হযরত শাহজাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে রাজাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।গ্রেফতারকৃত জামাল হোসেন রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের আদাখোলা গ্রামের মো. মকিম হাওলাদারের ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিলন হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জামাল হোসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিল। গ্রেফতার এড়াতে সে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার রাতে সে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে। ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের সময় তার নামে মামলা থাকায় সন্দেহ হলে বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতেই তাকে রাজাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি বলেন, "আলোচিত মিলন হত্যা মামলার পলাতক আসামী জামাল হোসেনকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"এই গ্রেফতারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত মামলার বাকি আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে রাজাপুর উপজেলায় মিলন নামে এক যুবক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই ঘটনায় রাজাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।


জনগণের সহায়তায় মান্দায় ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, ৩ জন গ্রেপ্তার

জনগণের সহায়তায় মান্দায় ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, ৩ জন গ্রেপ্তার

নওগাঁর মান্দায় ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও স্বর্ণালংকারসহ মালামাল ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হ্যান্ডকাফ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে মান্দা থানাধীন ১৪ নম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারইটুঙ্গি গ্রামের বিপুল কুমারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।আটক ব্যক্তিরা হলেন—দিনাজপুরের বিরামপুর থানার চাপড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মানিক হোসেন (৩৪), দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হকের ছেলে মো. এনামুল হক এবং ফুলবাড়ী থানার মুক্তারপুর গ্রামের মো. ইউসুফ খলিফার ছেলে মো. মাহবুব হাসান মুন্না (৩৯)।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বিপুল কুমারের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বিপুল কুমারের বাবা শুকুমার চন্দ্র ও চাচা সবুজ কুমারের হাতে হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। পরে বিপুলের স্ত্রী, মা ও শাশুড়িকেও ভয় দেখিয়ে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ ও আসবাবপত্র তল্লাশি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করে।বিষয়টি সন্দেহ হলে বিপুল কুমারসহ স্থানীয় লোকজন তাদের পিছু ধাওয়া করেন। পরে বাঘমারা থানাধীন সিমলা বাজার এলাকায় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে স্থানীয় জনগণ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হন এবং তাদের কাছ থেকে কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়।খবর পেয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে মান্দা থানা পুলিশ ও বাঘমারা থানা পুলিশের সহায়তায় আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়।এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


হাতুড়ে ডাক্তারের অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, শ্যামনগরে শোকের ছায়া।

হাতুড়ে ডাক্তারের অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, শ্যামনগরে শোকের ছায়া।

দিনের বেলায় যুবলীগ সভাপতির সাথে বাকবিতন্ডা, রাতের আঁধারে ছাত্রদল নেতার মাছের গদিতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ!

দিনের বেলায় যুবলীগ সভাপতির সাথে বাকবিতন্ডা, রাতের আঁধারে ছাত্রদল নেতার মাছের গদিতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ!

মনপুরায় গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের অভিযোগ মামলা, অভিযুক্ত তানজিল গ্রেফতার।

মনপুরায় গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের অভিযোগ মামলা, অভিযুক্ত তানজিল গ্রেফতার।

পুনরায় যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হলেন রাজাপুরের ফয়সাল আহমেদ

পুনরায় যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হলেন রাজাপুরের ফয়সাল আহমেদ

মন্ত্রী সভায় আলোচনায় ভোলা ৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নাম

মন্ত্রী সভায় আলোচনায় ভোলা ৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নাম

ভোলা জেলা যুবদলের সহ সভাপতি, চরফ্যাশন উপজেলার সদস্য সচিব হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল এর ন্যায় বিচার।

ভোলা জেলা যুবদলের সহ সভাপতি, চরফ্যাশন উপজেলার সদস্য সচিব হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল এর ন্যায় বিচার।

স্টেডিয়ামের সামনে ট্রাকচাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ

স্টেডিয়ামের সামনে ট্রাকচাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ

শ্যামনগরে গলায় ফাঁস দিয়ে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সঞ্জয় মণ্ডলের মৃত্যু।

শ্যামনগরে গলায় ফাঁস দিয়ে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সঞ্জয় মণ্ডলের মৃত্যু।

শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক উপাচার্যসহ পাঁচজনকে দুদকের তলব

শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক উপাচার্যসহ পাঁচজনকে দুদকের তলব

‘Basics of Newspaper Article Writing’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত, শিক্ষার্থীদের সংবাদ লেখার কৌশল শেখাল NILS AIUB Chapter

‘Basics of Newspaper Article Writing’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত, শিক্ষার্থীদের সংবাদ লেখার কৌশল শেখাল NILS AIUB Chapter

৬১ দিনের বন্দিজীবনের স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৬১ দিনের বন্দিজীবনের স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

অফিসের সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমে জড়ান ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ, বলছে সমীক্ষা

অফিসের সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমে জড়ান ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ, বলছে সমীক্ষা

পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ নিয়ে বিশকেকে বৈঠকে পুতিন-জিনপিং

পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ নিয়ে বিশকেকে বৈঠকে পুতিন-জিনপিং

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৫ বছরের তেল চুক্তি হলেও সার্বভৌমত্ব থাকবে অক্ষুণ্ন: রদ্রিগেজ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৫ বছরের তেল চুক্তি হলেও সার্বভৌমত্ব থাকবে অক্ষুণ্ন: রদ্রিগেজ

নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

যুদ্ধ চায় না ইরান, তবে আগ্রাসন হলে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ: পেজেশকিয়ান

যুদ্ধ চায় না ইরান, তবে আগ্রাসন হলে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ: পেজেশকিয়ান

এভাবে চিকিৎসা চললে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, সন্তান জন্মের পর মা-নবজাতকের মৃত্যু

এভাবে চিকিৎসা চললে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, সন্তান জন্মের পর মা-নবজাতকের মৃত্যু

গুম মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, প্রতিটি ঘটনার বিচার চলছে: প্রধানমন্ত্রী

গুম মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, প্রতিটি ঘটনার বিচার চলছে: প্রধানমন্ত্রী

হুজুররা হাসনাতের বেলায় সরব, বিএনপির বেলায় নীরব’: মাদানী

হুজুররা হাসনাতের বেলায় সরব, বিএনপির বেলায় নীরব’: মাদানী