ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

সরকারের প্রথম ছয় মাস হতাশা, সংকট ও ব্যর্থতায় ভরা: জামায়াত

সরকারের প্রথম ছয় মাস হতাশা, সংকট ও ব্যর্থতায় ভরা: জামায়াত
সরকারের প্রথম ছয় মাস হতাশা, সংকট ও ব্যর্থতায় ভরা: জামায়াত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দৃশ্যমান হয়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, হামিদুর রহমান আজাদসহ দলটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এখন শুধু প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে নয়, বাস্তব অর্জন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মানদণ্ডে সরকারের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের সময় এসেছে।

তিনি দাবি করেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা, নীতিগত অস্পষ্টতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ স্পষ্টভাবে মত দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি।

অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে ‘না’ ভোটের ব্যবধান আড়াই কোটির বেশি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল। ওই পরিষদকে প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর করা হয়নি।

তার অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে সরকার সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হয়েছে।

জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয় এতে রয়েছে। তবে গত ছয় মাসে এসবের কোনো একটি বাস্তবায়নেরও দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তার ভাষ্য, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে।

এই সংকটের প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে বলেও তিনি জানান।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার দুর্বলতাকেও স্পষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকারের প্রথম ছয় মাসেই প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ জোরালো হয়েছে।

পদোন্নতি, পদায়ন, ওএসডি এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ পদে দলঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তার দাবি, একই সময়ে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপি নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়োগের তথ্যও এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলাকে সরকার অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও সরকারি ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন তথ্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশব্যাপী ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্যও তিনি তুলে ধরেন।

পুলিশ সদর দফতরের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মার্চ থেকে মে—এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা পাওয়া গেছে।

তার দাবি, শুধু মার্চ-মে ২০২৬ সময়ে ৯১৫টি হত্যা মামলা হয়েছে। অথচ পুরো ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৬৭ এবং ২০২৪ সালে ৭৯৪টি।

দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছে জামায়াত। দলটির মূল্যায়নে বলা হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে জুন ২০২৬-এ সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। ওই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর আগের বছরের জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে পণ্যের দাম এখনো বেশি। ফলে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্যয়ের চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বেড়েছে। এতে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।

ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

তার অভিযোগ, সরকারের প্রথম ছয় মাসেও খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা এবং উচ্চ সুদের চাপ থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল থাকার পাশাপাশি মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে বলে তথ্য তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য এটি উদ্বেগজনক।

পররাষ্ট্রনীতিতেও কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ছয় মাসেও এটিকে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত পররাষ্ট্রনীতি কাঠামোয় রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়েও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে তাদের প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তায় ঘাটতি থাকায় বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

গুম প্রতিরোধ আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেটি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম মৌলিক প্রত্যাশা।

সরকার ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড রেমেডি অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও খসড়াটির কয়েকটি বিধান নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি আট দফা আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মধ্যপ্রাচ্য, জ্বালানি কূটনীতি, শ্রমবাজার এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও পরিমাপযোগ্য ফলাফল নির্ধারণ করে পূর্ণাঙ্গ পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষায় বাজার সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগী, অস্বাভাবিক মুনাফা এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে দলটি।

ব্যাংকিং খাতে আস্থা, শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা, প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ, খেলাপি ঋণ আদায়, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা এবং দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে যেকোনো ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানায় জামায়াত।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো শক্তিশালী অর্জন জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেনি। জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, বরং সমস্যার সমাধানের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে।

আগামী সময়ে সরকার যদি প্রথম ছয় মাসের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে না পারে, তাহলে জনগণের হতাশা এবং আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


সরকারের প্রথম ছয় মাস হতাশা, সংকট ও ব্যর্থতায় ভরা: জামায়াত

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দৃশ্যমান হয়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, হামিদুর রহমান আজাদসহ দলটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এখন শুধু প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে নয়, বাস্তব অর্জন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মানদণ্ডে সরকারের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের সময় এসেছে।

তিনি দাবি করেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা, নীতিগত অস্পষ্টতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ স্পষ্টভাবে মত দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি।

অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে ‘না’ ভোটের ব্যবধান আড়াই কোটির বেশি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল। ওই পরিষদকে প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর করা হয়নি।

তার অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে সরকার সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হয়েছে।

জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয় এতে রয়েছে। তবে গত ছয় মাসে এসবের কোনো একটি বাস্তবায়নেরও দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তার ভাষ্য, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে।

এই সংকটের প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে বলেও তিনি জানান।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার দুর্বলতাকেও স্পষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকারের প্রথম ছয় মাসেই প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ জোরালো হয়েছে।

পদোন্নতি, পদায়ন, ওএসডি এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ পদে দলঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তার দাবি, একই সময়ে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপি নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়োগের তথ্যও এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলাকে সরকার অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও সরকারি ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন তথ্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশব্যাপী ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্যও তিনি তুলে ধরেন।

পুলিশ সদর দফতরের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মার্চ থেকে মে—এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা পাওয়া গেছে।

তার দাবি, শুধু মার্চ-মে ২০২৬ সময়ে ৯১৫টি হত্যা মামলা হয়েছে। অথচ পুরো ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৬৭ এবং ২০২৪ সালে ৭৯৪টি।

দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছে জামায়াত। দলটির মূল্যায়নে বলা হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে জুন ২০২৬-এ সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। ওই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর আগের বছরের জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে পণ্যের দাম এখনো বেশি। ফলে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্যয়ের চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বেড়েছে। এতে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।

ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

তার অভিযোগ, সরকারের প্রথম ছয় মাসেও খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা এবং উচ্চ সুদের চাপ থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল থাকার পাশাপাশি মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে বলে তথ্য তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য এটি উদ্বেগজনক।

পররাষ্ট্রনীতিতেও কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ছয় মাসেও এটিকে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত পররাষ্ট্রনীতি কাঠামোয় রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়েও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে তাদের প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তায় ঘাটতি থাকায় বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

গুম প্রতিরোধ আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেটি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম মৌলিক প্রত্যাশা।

সরকার ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড রেমেডি অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও খসড়াটির কয়েকটি বিধান নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি আট দফা আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মধ্যপ্রাচ্য, জ্বালানি কূটনীতি, শ্রমবাজার এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও পরিমাপযোগ্য ফলাফল নির্ধারণ করে পূর্ণাঙ্গ পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষায় বাজার সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগী, অস্বাভাবিক মুনাফা এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে দলটি।

ব্যাংকিং খাতে আস্থা, শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা, প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ, খেলাপি ঋণ আদায়, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা এবং দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে যেকোনো ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানায় জামায়াত।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো শক্তিশালী অর্জন জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেনি। জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, বরং সমস্যার সমাধানের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে।

আগামী সময়ে সরকার যদি প্রথম ছয় মাসের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে না পারে, তাহলে জনগণের হতাশা এবং আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সরকারের প্রথম ছয় মাস হতাশা, সংকট ও ব্যর্থতায় ভরা: জামায়াত
0:00 0:00
1.0x