ঢাকা    রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলার

রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলার
রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলার

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। এ জন্য কেন্দ্রটিতে শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুরের প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে গেলে সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাছান বলেন, বছরে ১০০ কোটি ডলার সাশ্রয়ের বিষয়টি নির্ভর করবে বিকল্প হিসেবে কোন ধরনের জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে তার ওপর। আগামী ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে শেষ ধাপের জটিল ও সংবেদনশীল পরীক্ষাগুলো চলছে। প্রতিটি পর্যায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপে নেওয়া হচ্ছে।

নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বেইসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। এর ফলে তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তার প্রভাবও কমে আসবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন কাঠামোর কমিশনিংয়ের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। তবে দুই ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে গ্রিড ও সঞ্চালনব্যবস্থায় আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলার

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। এ জন্য কেন্দ্রটিতে শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুরের প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে গেলে সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাছান বলেন, বছরে ১০০ কোটি ডলার সাশ্রয়ের বিষয়টি নির্ভর করবে বিকল্প হিসেবে কোন ধরনের জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে তার ওপর। আগামী ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে শেষ ধাপের জটিল ও সংবেদনশীল পরীক্ষাগুলো চলছে। প্রতিটি পর্যায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপে নেওয়া হচ্ছে।

নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বেইসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। এর ফলে তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তার প্রভাবও কমে আসবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন কাঠামোর কমিশনিংয়ের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। তবে দুই ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে গ্রিড ও সঞ্চালনব্যবস্থায় আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলার
0:00 0:00
1.0x