তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতি, আকিদা-বিশ্বাস ও ঐতিহ্য বিবেচনায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মবিষয়ক দায়িত্বে এমন কাউকে রাখা উচিত নয়, যার কর্মকাণ্ড নিয়ে হানাফি সুন্নী ৯০ শতাংশ মুসলিম সমাজে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা ও আদর্শের বিরোধী কোনো ব্যক্তি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলে দেশের বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
পীর সাহেব বলেন, বাংলাদেশে ইসলাম, মুসলিম ঐতিহ্য, পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরামের অবদান ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিএনপি সরকার এ দেশের পীর-মাশায়েখ ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মতাদর্শে বিশ্বাসী মুসলমানদের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে—এটি ভুলে গেলে চলবে না। ফান্দাউক দরবার শরীফ দীর্ঘদিন ধরে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় জীবন গঠনে কাজ করে আসছে।
ফান্দাউক দরবার শরীফের পীর বলেন, কোনো ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে তারা কথা বলছেন না; তাদের বক্তব্য নীতিগত। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবেগ সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এমন ব্যক্তিকে দেখতে চান, যিনি কোরআন-সুন্নাহ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতির প্রতি সম্মানশীল।
গতকাল ফান্দাউক দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্র মহলের বার্ষিক কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের উচিত সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা। একই সঙ্গে কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে—এমন সিদ্ধান্ত বা অবস্থান থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
এ সময় তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ধর্মীয় বিষয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়া এবং সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করার দাবি জানান ফান্দাউক দরবার শরীফের পীর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্র মহলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পীরজাদা মুফতি সৈয়দ বাকের মোস্তফা আল-হোসাইনীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পীরজাদা মাওলানা মুফতি সৈয়দ মঈনুদ্দিন আহমাদ আল-হোসাইনী, মাওলানা মুফতি সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক আল-হোসাইনী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব পীর মুফতি গিয়াসউদ্দিন আত-তাহেরীসহ বাংলাদেশ আঞ্জুমানে খাদিমুল ইসলাম ও ইসলামি ছাত্র মহলের কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলন শেষে আগত মুসলিম জনতা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে সম্মিলিতভাবে জসনে জুলুস ও আনন্দ মিছিল করেন। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতি, আকিদা-বিশ্বাস ও ঐতিহ্য বিবেচনায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মবিষয়ক দায়িত্বে এমন কাউকে রাখা উচিত নয়, যার কর্মকাণ্ড নিয়ে হানাফি সুন্নী ৯০ শতাংশ মুসলিম সমাজে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা ও আদর্শের বিরোধী কোনো ব্যক্তি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলে দেশের বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
পীর সাহেব বলেন, বাংলাদেশে ইসলাম, মুসলিম ঐতিহ্য, পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরামের অবদান ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিএনপি সরকার এ দেশের পীর-মাশায়েখ ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মতাদর্শে বিশ্বাসী মুসলমানদের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে—এটি ভুলে গেলে চলবে না। ফান্দাউক দরবার শরীফ দীর্ঘদিন ধরে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় জীবন গঠনে কাজ করে আসছে।
ফান্দাউক দরবার শরীফের পীর বলেন, কোনো ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে তারা কথা বলছেন না; তাদের বক্তব্য নীতিগত। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবেগ সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এমন ব্যক্তিকে দেখতে চান, যিনি কোরআন-সুন্নাহ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতির প্রতি সম্মানশীল।
গতকাল ফান্দাউক দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্র মহলের বার্ষিক কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের উচিত সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা। একই সঙ্গে কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে—এমন সিদ্ধান্ত বা অবস্থান থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
এ সময় তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ধর্মীয় বিষয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়া এবং সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করার দাবি জানান ফান্দাউক দরবার শরীফের পীর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্র মহলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পীরজাদা মুফতি সৈয়দ বাকের মোস্তফা আল-হোসাইনীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পীরজাদা মাওলানা মুফতি সৈয়দ মঈনুদ্দিন আহমাদ আল-হোসাইনী, মাওলানা মুফতি সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক আল-হোসাইনী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব পীর মুফতি গিয়াসউদ্দিন আত-তাহেরীসহ বাংলাদেশ আঞ্জুমানে খাদিমুল ইসলাম ও ইসলামি ছাত্র মহলের কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলন শেষে আগত মুসলিম জনতা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে সম্মিলিতভাবে জসনে জুলুস ও আনন্দ মিছিল করেন। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

আপনার মতামত লিখুন