ড. আব্বাসী দাবি করেন, দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতসহ সহিহ ঘরানার জনগোষ্ঠীর সমর্থনেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মানুষের আস্থাকে গুরুত্ব না দিয়ে সালাফি ও লামাজহাবি মতাদর্শের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শামীম কায়সার লিংকনকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের মধ্য দিয়ে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের আস্থার জায়গায় সরকার একটি ছিদ্র তৈরি করেছে। এই ছিদ্র দ্রুত বন্ধ করতে হবে। তা বড় আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ড. আব্বাসীর ভাষ্য, সিদ্ধান্তটি দেশের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। সরকার কারও প্রভাবে পড়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তার দাবি, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও আহলে হকসহ সহিহ ঘরানার মানুষের সমর্থনেই সরকার ক্ষমতায় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, লামাজহাবি সম্প্রদায়ের মনোরঞ্জন করতে গিয়ে মূল ধারার আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের অসন্তুষ্ট করে বিতর্কিত একজনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা সরকারের আশপাশে কিছু অসৎ ব্যক্তির উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। এসব ব্যক্তি সরকারকে বিপাকে ফেলতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সালাফি বা আহলে হাদিস অনুসারীদের একটি পৃথক সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করে ড. আব্বাসী বলেন, মূলধারার মুসলমানরা নিজেদের নির্দিষ্ট মাজহাবের পরিচয়ে পরিচিত হলেও আলাদা নামে মসজিদ বা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন না। কিন্তু এই গোষ্ঠী নিজেদের ‘আহলে হাদিস’ বা ‘সালাফি’ পরিচয়ে পৃথক মাদরাসা ও মসজিদ পরিচালনা করছে।
তার দাবি, এই মতাদর্শিক বিচ্যুতি থেকে ভবিষ্যতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ফেরকার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি সালাফি ও লামাজহাবিদের প্রসঙ্গে বলেন, লামাজহাবি অর্থ এক দৃষ্টিতে লাদ্বীনি। তার দাবি, এদের মধ্য থেকে বিভিন্ন বাতিল ফেরকার অনুসারী বের হয়েছে। ‘আহলে কুরআন’ দাবিদার একটি গোষ্ঠীর উদ্ভবও লামাজহাবিদের মধ্য থেকে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২০০১ থেকে ২০০৫ মেয়াদের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ড. আব্বাসী বলেন, সে সময় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সালাফি মতাদর্শের প্রভাবে মূলধারার আলেমদের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব ২০০৮ সালের নির্বাচনে পড়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
ড. আব্বাসী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৫ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, আহলে সুন্নাত ও আহলে হকসহ বৃহৎ আলেম সমাজের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তার দাবি, বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সালাফি মতাদর্শের অনুসারীদের বক্তব্যের কারণে হানাফি, সুন্নি ও আহলে হক অনুসারীদের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল।
সূত্র: ইনকিলাব

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
ড. আব্বাসী দাবি করেন, দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতসহ সহিহ ঘরানার জনগোষ্ঠীর সমর্থনেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মানুষের আস্থাকে গুরুত্ব না দিয়ে সালাফি ও লামাজহাবি মতাদর্শের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শামীম কায়সার লিংকনকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের মধ্য দিয়ে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের আস্থার জায়গায় সরকার একটি ছিদ্র তৈরি করেছে। এই ছিদ্র দ্রুত বন্ধ করতে হবে। তা বড় আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ড. আব্বাসীর ভাষ্য, সিদ্ধান্তটি দেশের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। সরকার কারও প্রভাবে পড়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তার দাবি, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও আহলে হকসহ সহিহ ঘরানার মানুষের সমর্থনেই সরকার ক্ষমতায় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, লামাজহাবি সম্প্রদায়ের মনোরঞ্জন করতে গিয়ে মূল ধারার আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের অসন্তুষ্ট করে বিতর্কিত একজনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা সরকারের আশপাশে কিছু অসৎ ব্যক্তির উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। এসব ব্যক্তি সরকারকে বিপাকে ফেলতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সালাফি বা আহলে হাদিস অনুসারীদের একটি পৃথক সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করে ড. আব্বাসী বলেন, মূলধারার মুসলমানরা নিজেদের নির্দিষ্ট মাজহাবের পরিচয়ে পরিচিত হলেও আলাদা নামে মসজিদ বা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন না। কিন্তু এই গোষ্ঠী নিজেদের ‘আহলে হাদিস’ বা ‘সালাফি’ পরিচয়ে পৃথক মাদরাসা ও মসজিদ পরিচালনা করছে।
তার দাবি, এই মতাদর্শিক বিচ্যুতি থেকে ভবিষ্যতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ফেরকার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি সালাফি ও লামাজহাবিদের প্রসঙ্গে বলেন, লামাজহাবি অর্থ এক দৃষ্টিতে লাদ্বীনি। তার দাবি, এদের মধ্য থেকে বিভিন্ন বাতিল ফেরকার অনুসারী বের হয়েছে। ‘আহলে কুরআন’ দাবিদার একটি গোষ্ঠীর উদ্ভবও লামাজহাবিদের মধ্য থেকে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২০০১ থেকে ২০০৫ মেয়াদের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ড. আব্বাসী বলেন, সে সময় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সালাফি মতাদর্শের প্রভাবে মূলধারার আলেমদের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব ২০০৮ সালের নির্বাচনে পড়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
ড. আব্বাসী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৫ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, আহলে সুন্নাত ও আহলে হকসহ বৃহৎ আলেম সমাজের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তার দাবি, বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সালাফি মতাদর্শের অনুসারীদের বক্তব্যের কারণে হানাফি, সুন্নি ও আহলে হক অনুসারীদের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল।
সূত্র: ইনকিলাব

আপনার মতামত লিখুন