পরিকল্পিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে তার নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বুক কর্নার’ স্থাপন, জন্মবার্ষিকী পালন, স্মরণিকা প্রকাশ এবং ঝাউতলাস্থ তার বাসভবন সংস্কারের উদ্যোগ।
এ উদ্দেশ্যে গঠিত ‘শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ ও পাঠাগার বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর পরিচিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণ নিয়ে সভা গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকার দেশপ্রিয় কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।
পরিষদের আহ্বায়ক ড. শাহ মো. সেলিমের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় বক্তারা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ভাষা আন্দোলনে অবদানের বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তার স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তার জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তার অবদান তুলে ধরতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণের কথাও বলেন তারা।
সভায় আগামী ২ নভেম্বর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ ও পুস্তক প্রদর্শনীর আয়োজন এবং ভারতে অবস্থানরত তার কন্যা মনীষা দত্তকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।
এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং কয়েকটি বিদ্যালয়ের পাঠাগারে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নামে ‘বুক কর্নার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ভাষা আন্দোলনে তার অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকে তার ভূমিকা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বর্তমানে অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঝাউতলাস্থ বাসভবন সংস্কার ও সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ কামনা করা হয়।
পাশাপাশি কুমিল্লায় ভাষা শহীদদের স্মরণে ভাষা ও ভাষা আন্দোলন বিষয়ক একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবও সভায় উত্থাপন করা হয়।
পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সভায় কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। স্মৃতি রক্ষা ও স্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. মুজাহিদ চৌধুরীকে।
অর্থ উপ-কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন ড. শাহ মো. সেলিম। জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা বশিরুল আনোয়ার, তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির আহ্বায়ক ড. জে.এন. লিলি এবং গঠনতন্ত্র বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এবিএম আহসানুল কবিরকে। এসব উপ-কমিটিতে আরও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সভায় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ সাহা, শেখ আবদুল মান্নান, অধ্যক্ষ তাপস বকসী, মাহবুবুল আলম চপল, অধ্যক্ষ বিধান চন্দ, আতিক সেলিম রুবেল, সুব্রত চৌধুরী তপু, নারী নেত্রী অনিমা মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহের হোসেন বাবুল, অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক পলাশ, নারী নেত্রী শাহানা হক, শেখ ফরিদ আহমেদ, অচিন্ত দাস টিটু, অধ্যাপক রাহুল তারুনসহ পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বশিরুল আনোয়ার।
সভায় জানানো হয়, এসব প্রাথমিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. শাহ মো. সেলিম বলেন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মতো ভাষা আন্দোলনের অগ্রপথিক ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদের স্মৃতি সংরক্ষণ শুধু কুমিল্লার বিষয় নয়, এটি জাতীয় দায়িত্বও। তার জীবন, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ভাষা আন্দোলনে অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বৃহত্তর কুমিল্লার বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতি সংরক্ষণের এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: তালাশ বিডি

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পরিকল্পিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে তার নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বুক কর্নার’ স্থাপন, জন্মবার্ষিকী পালন, স্মরণিকা প্রকাশ এবং ঝাউতলাস্থ তার বাসভবন সংস্কারের উদ্যোগ।
এ উদ্দেশ্যে গঠিত ‘শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ ও পাঠাগার বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর পরিচিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণ নিয়ে সভা গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকার দেশপ্রিয় কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।
পরিষদের আহ্বায়ক ড. শাহ মো. সেলিমের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় বক্তারা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ভাষা আন্দোলনে অবদানের বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তার স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তার জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তার অবদান তুলে ধরতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণের কথাও বলেন তারা।
সভায় আগামী ২ নভেম্বর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ ও পুস্তক প্রদর্শনীর আয়োজন এবং ভারতে অবস্থানরত তার কন্যা মনীষা দত্তকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।
এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং কয়েকটি বিদ্যালয়ের পাঠাগারে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নামে ‘বুক কর্নার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ভাষা আন্দোলনে তার অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকে তার ভূমিকা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বর্তমানে অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঝাউতলাস্থ বাসভবন সংস্কার ও সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ কামনা করা হয়।
পাশাপাশি কুমিল্লায় ভাষা শহীদদের স্মরণে ভাষা ও ভাষা আন্দোলন বিষয়ক একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবও সভায় উত্থাপন করা হয়।
পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সভায় কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। স্মৃতি রক্ষা ও স্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. মুজাহিদ চৌধুরীকে।
অর্থ উপ-কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন ড. শাহ মো. সেলিম। জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা বশিরুল আনোয়ার, তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির আহ্বায়ক ড. জে.এন. লিলি এবং গঠনতন্ত্র বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এবিএম আহসানুল কবিরকে। এসব উপ-কমিটিতে আরও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সভায় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ সাহা, শেখ আবদুল মান্নান, অধ্যক্ষ তাপস বকসী, মাহবুবুল আলম চপল, অধ্যক্ষ বিধান চন্দ, আতিক সেলিম রুবেল, সুব্রত চৌধুরী তপু, নারী নেত্রী অনিমা মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহের হোসেন বাবুল, অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক পলাশ, নারী নেত্রী শাহানা হক, শেখ ফরিদ আহমেদ, অচিন্ত দাস টিটু, অধ্যাপক রাহুল তারুনসহ পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বশিরুল আনোয়ার।
সভায় জানানো হয়, এসব প্রাথমিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. শাহ মো. সেলিম বলেন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মতো ভাষা আন্দোলনের অগ্রপথিক ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদের স্মৃতি সংরক্ষণ শুধু কুমিল্লার বিষয় নয়, এটি জাতীয় দায়িত্বও। তার জীবন, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ভাষা আন্দোলনে অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বৃহত্তর কুমিল্লার বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতি সংরক্ষণের এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: তালাশ বিডি

আপনার মতামত লিখুন