ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের ঘটনায় এ বছরই বিচার শুরুর লক্ষ্য

আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের ঘটনায় এ বছরই বিচার শুরুর লক্ষ্য
আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের ঘটনায় এ বছরই বিচার শুরুর লক্ষ্য

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত ২৫১টি গুমের ঘটনার তদন্ত শেষ করে চলতি বছরের মধ্যেই বিচার কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

রোববার ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের শিকার ২৫১ জনের প্রত্যেককে প্রায় একই ধরনের প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। ঘটনাগুলোর মধ্যে ব্যাপক মিল রয়েছে। এ কারণে এসব ঘটনাকে ‘ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক’ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আজ গুমের শিকার পরিবারের ৫৫ জন সদস্য ট্রাইব্যুনালে এসেছেন। তদন্ত সংস্থার ১৮ জন কর্মকর্তা তাদের বক্তব্য গ্রহণ করছেন। পর্যায়ক্রমে অন্য পরিবারগুলোর সদস্যদেরও বক্তব্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের কাছে থাকা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করা হবে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, অপরাধীদের অনেকাংশকেই ইতোমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কারা কীভাবে ভুক্তভোগীদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং কোথায় এসব ঘটনা ঘটেছে, সেসব স্থানও প্রায় চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ পর্যায়ে সব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যেও কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারেন। আবার অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও কেউ জড়িত থাকতে পারেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে চলতি বছরের মধ্যেই বিচার শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। একই সঙ্গে শনাক্ত করা আসামিদের গতিবিধিও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে আসামিদের আনা-নেওয়ার সময় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। গুম পরিবারের যেসব সদস্য সাক্ষ্য দিয়েছেন বা ভবিষ্যতে দেবেন, তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। অপরাধীদের বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। তারা যেকোনো সময় নিজেদের মতো করে আঘাত করতে পারে। একইভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তদন্ত কার্যক্রম কোনোভাবে ব্যাহত বা নাশকতার শিকার না হয় এবং তদন্তে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করা যায়।

গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে ২৫১ জন গুমের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে আজ গুম পরিবারের ৫৫ জন সদস্য ট্রাইব্যুনালে আসেন। তাদের বক্তব্য গ্রহণ করছেন তদন্ত সংস্থার ১৮ কর্মকর্তা।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের ঘটনায় এ বছরই বিচার শুরুর লক্ষ্য

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত ২৫১টি গুমের ঘটনার তদন্ত শেষ করে চলতি বছরের মধ্যেই বিচার কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

রোববার ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের শিকার ২৫১ জনের প্রত্যেককে প্রায় একই ধরনের প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। ঘটনাগুলোর মধ্যে ব্যাপক মিল রয়েছে। এ কারণে এসব ঘটনাকে ‘ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক’ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আজ গুমের শিকার পরিবারের ৫৫ জন সদস্য ট্রাইব্যুনালে এসেছেন। তদন্ত সংস্থার ১৮ জন কর্মকর্তা তাদের বক্তব্য গ্রহণ করছেন। পর্যায়ক্রমে অন্য পরিবারগুলোর সদস্যদেরও বক্তব্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের কাছে থাকা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করা হবে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, অপরাধীদের অনেকাংশকেই ইতোমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কারা কীভাবে ভুক্তভোগীদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং কোথায় এসব ঘটনা ঘটেছে, সেসব স্থানও প্রায় চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ পর্যায়ে সব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যেও কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারেন। আবার অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও কেউ জড়িত থাকতে পারেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে চলতি বছরের মধ্যেই বিচার শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। একই সঙ্গে শনাক্ত করা আসামিদের গতিবিধিও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে আসামিদের আনা-নেওয়ার সময় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। গুম পরিবারের যেসব সদস্য সাক্ষ্য দিয়েছেন বা ভবিষ্যতে দেবেন, তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। অপরাধীদের বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। তারা যেকোনো সময় নিজেদের মতো করে আঘাত করতে পারে। একইভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তদন্ত কার্যক্রম কোনোভাবে ব্যাহত বা নাশকতার শিকার না হয় এবং তদন্তে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করা যায়।

গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে ২৫১ জন গুমের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে আজ গুম পরিবারের ৫৫ জন সদস্য ট্রাইব্যুনালে আসেন। তাদের বক্তব্য গ্রহণ করছেন তদন্ত সংস্থার ১৮ কর্মকর্তা।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের ঘটনায় এ বছরই বিচার শুরুর লক্ষ্য
0:00 0:00
1.0x